ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশ্বের ৩য় সর্বনিম্ন অবস্থানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৭:২৮ পিএম

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পানি, স্যানিটেশন, হাত ধোয়ার সুবিধা, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা— এই পাঁচটি মৌলিক সেবার প্রায় প্রতিটিতেই মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায়ও বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে দুর্বল সারিতে নেমে এসেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)-এর যৌথ মনিটরিং প্রোগ্রাম (জেএমপি)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘প্রোগ্রেস অন ওয়াটার, স্যানিটেশন, হাইজিন, এনভায়রনমেন্টাল ক্লিনিং অ্যান্ডস  ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইন হেলথ কেয়ার ফ্যাসিলিটিজ ২০১৫-২০২৫’ শিরোনামের এই যৌথ প্রতিবেদনটি গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বের শতাধিক দেশের সাম্প্রতিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক জরিপ বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৭১ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মৌলিক পানি সেবা রয়েছে, ১৮ শতাংশে সীমিত এবং ১১ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো পানি সেবাই নেই। যা পাকিস্তানের (৭৫%) চেয়েও কম। অথচ ভারত (৯৭%), ভুটান (৯৭%), শ্রীলঙ্কা (৯৬%), ইরান (৮৮%), নেপাল (৮৩%) ও আফগানিস্তান (৮২%) অনেক দূর এগিয়ে রয়েছে। মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল হিসেবে বিশ্বজুড়ে পানি সেবায় সর্বোচ্চ ৮৯ শতাংশ গড় কভারেজ অর্জন করলেও বাংলাদেশ এই আঞ্চলিক গড়ের চেয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে।

স্যানিটেশন সূচকে চিত্র আরও উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশের মাত্র ২৫ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা আছে; বাকি ৫৭ শতাংশে সীমিত সেবা এবং ১৮ শতাংশ কেন্দ্রে কোনো সেবাই মিলছে না। দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু ভারত (৭৩%) উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে। শ্রীলঙ্কা (৩৩%), ইরান ও ভুটান (উভয়ে ২২%) এবং নেপালও (২১%) বাংলাদেশের কাছাকাছি বা কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। তবে কোনো সেবা না থাকার উচ্চ হারের দিক থেকে বাংলাদেশ (১৮%) নেপাল (৫%) ও ভারতের (৬%) চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ২০২২ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, দেশের মাত্র ১৯ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র পয়ঃনিষ্কাশন লাইনের সাথে যুক্ত। বাকিদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ সেপটিক ট্যাংক এবং ১১ শতাংশ সাধারণ পিট ল্যাট্রিনের ওপর নির্ভরশীল।

হাত ধোয়ার সুবিধাসহ মৌলিক হাইজিন সেবা দেশের মাত্র ৩২ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাওয়া যাচ্ছে; ৪০ শতাংশে তা অত্যন্ত সীমিত এবং ২৭ শতাংশ কেন্দ্রে ন্যূনতম সুবিধাটুকুও নেই। এই সূচকে ভারত (৯৪%), ইরান (৯৩%), শ্রীলঙ্কা (৯২%) ও ভুটান (৮৫%) ঈর্ষণীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া নেপাল (৭০%) ও পাকিস্তান (৫৫%) উভয় দেশই বাংলাদেশের চেয়ে ভালো করছে।

পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থা ভয়াবহ। দেশের মাত্র ২০ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মৌলিক সেবা রয়েছে, ৩১ শতাংশে সীমিত এবং প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৪৯ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই নেই কোনো পরিচ্ছন্নতা সেবা। আফগানিস্তান (৮৩%), ভারত (৭৮%) ও শ্রীলঙ্কা (৫৭%) এই সূচকে এগিয়ে থাকলেও নেপালের অবস্থা বেশ নাজুক।

অন্যদিকে, চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থান ধসে পড়েছে। মাত্র ১৬ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মৌলিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা বিদ্যমান, ৫৫ শতাংশে সীমিত এবং ২৮ শতাংশে কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থাই নেই। এ সূচকে বিশ্বের যে ১৬টি দেশের ভয়াবহ তালিকা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তাতে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বজুড়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ (সুদান ও পাকিস্তানের পরই)। অথচ এ সূচকে ভারত (৮৯%) ও আফগানিস্তান (৮২%) বহুদূর এগিয়ে রয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাংলাদেশের কোনো নন-হাসপাতাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ধারালো বা সুচালো বর্জ্য নিষ্পত্তির জন্য ইনসিনারেটরের ন্যূনতম ব্যবহার পাওয়া যায়নি। কক্সবাজার অঞ্চলের বিশেষ স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার প্রতিনিধি চিত্রও এতে বিশ্বমঞ্চে উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা বলছেন, পর্যাপ্ত পানি ও স্যানিটেশন না থাকলে সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, যা মাতৃমৃত্যু ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকিকে মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে তুলছে। এ সংকট উত্তরণে ভারতের 'কায়াকল্প' মডেল অনুসরণ ও ডব্লিউএইচও-ইউনিসেফের 'ওয়াশ-ফিট' টুলের ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি বলে প্রতিবেদনে জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর