রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে অপহৃত দন্ত চিকিৎসক হাসিবুর হাসানকে (৪৩) অত্যন্ত নাটকীয় পরিস্থিতিতে হস্তপদ ও চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় অক্ষত উদ্ধার করা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে গন্তব্যে যাওয়ার পথে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের মাধ্যমে তিনি অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। পরবর্তীতে রাজউক আনসার গার্ডের একটি টহল দলের তৎপরতায় পূর্বাচলের নির্জন জঙ্গল থেকে তাঁকে জীবিত ও অক্ষত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় জলসিঁড়ি এলাকার মাস্টার ফার্মেসিতে নিয়মিত রোগী দেখতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন চিকিৎসক হাসিবুর হাসান। সেই সময় জলসিঁড়ি এলাকায় নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে এক চালক তাঁকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। তবে গাড়িতে ওঠার পরপরই ভেতরে ওঁৎ পেতে থাকা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রটি অত্যন্ত হিংস্রভাবে তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং জোরপূর্বক তাঁর হাত, পা, চোখ ও মুখ গামছা বা কাপড় দিয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেলে।
পরবর্তীতে অপহৃত ওই চিকিৎসকের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণকারীরা তাঁর পরিবারের লোকজনের কাছে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে হুমকি দিতে থাকে। পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি সন্ত্রাসীরা ওই চিকিৎসকের সাথে থাকা ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয় এবং সেটিতে থাকা অ্যাপ ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ১২ হাজার টাকা নিজেদের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে হাতিয়ে নেয়।
সর্বস্ব লুটে নেওয়ার পর গভীর রাতে ভুক্তভোগী চিকিৎসককে সেই হাত-পা ও চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থাতেই পূর্বাচলের একটি নির্জন ঝোপঝাড় বা জঙ্গলের ভেতরে ফেলে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা। ঘটনাক্রমে ওই সময়ে এলাকাটিতে নিয়মিত রাতের টহল ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন রাজউক আনসার গার্ডের একটি দায়িত্বশীল দল।
টহল দেওয়ার সময় আনসার সদস্যরা নির্জন ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির অস্পষ্ট গোঙানির শব্দ শুনতে পান। শব্দের উৎস ধরে এগিয়ে গেলে তারা সেখানে অত্যন্ত অসহায় ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় চিকিৎসাক হাসিবুর হাসানকে দেখতে পান। তারা দ্রুত ওই চিকিৎসককে উদ্ধার করে বাঁধন মুক্ত করেন এবং তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।