নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবনে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
এ ছাড়া নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর ভোট প্রদান করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর দুইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের মূল অধিবেশন কক্ষে এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে। 'রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১' অনুযায়ী এ নির্বাচনে 'নির্বাচনী কর্তা' হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
ভোটগ্রহণ শুরুর আগে জাতীয় সংসদের বিশেষ বৈঠকে সংসদ সদস্যদের ভোটদানের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করেন সিইসি। বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা। বৈঠক থেকে সিইসি দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাঁদের প্রস্তাবক ও সমর্থকদের নাম ঘোষণা করেন। এরপর ব্যালট পেপার গ্রহণ, মুড়ি অংশে স্বাক্ষর এবং পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষরসহ তা বাক্সে জমা দেওয়ার নিয়ম বিশদভাবে বুঝিয়ে বলেন।
সংসদের নিয়মিত অধিবেশন না থাকায় নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে আইন মেনে এ বিশেষ বৈঠক আহ্বান করা হয়। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসেই ব্যালট সংগ্রহ ও ভোট প্রদান করছেন। দায়িত্ব পালনরত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার সংসদ সদস্য হওয়ায় তাঁদের জন্য সংসদ কক্ষে পৃথক আসনে ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল সংসদ সদস্য হওয়ায় ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলেও, অলি আহমদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছরই প্রথম সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ তিন দশক ধরে একক দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। তবে এবার একাধিক প্রার্থী থাকায় দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আগামী ৫ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন।