দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে আলোচনায় আসা জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম চলমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদান করবেন কি না—সাংবাদিকদের এমন এক সরাসরি প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ জানান, বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্পূর্ণভাবে তাঁর দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এখতিয়ারভুক্ত।
চিফ হুইপ স্পষ্ট করে বলেন, ‘সংসদ সদস্য হিসেবে গাজী নজরুল ইসলাম ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন কি না, তা একান্তই তাঁর দলীয় সিদ্ধান্ত এবং এটি জামায়াতে ইসলামীর ওপর নির্ভর করছে।’
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলের পর জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংসদীয় আসন এবং মন্ত্রিসভার পদের মেয়াদ সম্পর্কে ওঠা প্রশ্নের উত্তর দেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, সংবিধানে উল্লিখিত নিয়ম অনুযায়ী, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমপি ও মন্ত্রিত্বের পদ আপনাআপনি শূন্য হয়ে যাবে। ওই মুহূর্তের পর থেকে তিনি কেবল রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।
চিফ হুইপ আরও উল্লেখ করেন, মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য ঘোষিত হলে আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন উক্ত আসনে উপ-নির্বাচন আয়োজন করবে।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের ভোটদানের আইনি বৈধতা বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন নূরুল ইসলাম মনি। তিনি জানান, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী তাঁর ভোটাধিকার পূর্ণ বহাল রয়েছে এবং তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে এই নির্বাচনে সরাসরি ভোট প্রদান করবেন।