দেশজুড়ে মারাত্মক কলেরা রোগ প্রতিরোধে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’। আজ শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই টিকাদান কর্মসূচির অধীনে প্রথম ডোজ প্রদান কার্যক্রম চলবে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পরবর্তীতে নির্ধারিত দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
গত বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। একই দিনে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আয়োজিত পৃথক এক কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে এই ওরাল কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের মোট ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় নাগরিকদের টিকা দেওয়া হবে। তবে টিকা গ্রহণের পর পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা পাওয়ার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে অবশ্যই দু’টি ডোজ গ্রহণ করতে হবে। গর্ভবতী নারী ব্যতীত এক বছর বা তার বেশি বয়সী দেশের সব নাগরিককে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই টিকা খাওয়ানো হবে। সারাদেশে মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে এই ভ্যাকসিনের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার ১৭টি ওয়ার্ডে মোট ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অন্তর্ভুক্ত শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকাতেও একযোগে এই টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
উল্লেখ্য, ক্ষতিকর কলেরা জীবাণু ভাব্রিওর সংক্রমণ প্রতিরোধ করতেই মূলত মুখে খাওয়ার এই বিশেষ টিকা ব্যবহার করা হয়। সঠিক নিয়মে দুই ডোজ গ্রহণ করলে এই টিকা শরীরকে কয়েক বছর পর্যন্ত কলেরা রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম। তবে টিকা গ্রহণের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে সবসময় নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং নিয়মিত ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরম পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।