পিরোজপুর প্রতিনিধি
টানা ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পিরোজপুরের জনজীবন। দিনের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিদ্যুতের অভাবে রাতে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বাসিন্দারা। দিনের প্রচণ্ড গরমের পর রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দোকানপাট, ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি চালাতে না পারায় অনেক ব্যবসায়ীকে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্রিজ ও বৈদ্যুতিক সংরক্ষণব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বেশি বিপাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ বলেন, ‘বিদ্যুৎ থাকেই না বললেই চলে। অথচ বিদ্যুৎ বিল কখন এবং কীভাবে বাড়ে, সেটাও আমরা ভোক্তারা জানি না। নিয়মিত বিদ্যুৎ না পেয়েও বাড়তি বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে কি না, তা নিয়েও আমাদের উদ্বেগ রয়েছে।’
একজন স্থানীয় মুদি দোকানি বলেন, ‘ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দোকানের ফ্রিজে রাখা বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।’
শিক্ষার্থীরাও লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দিনের ব্যস্ততার পর রাতে পড়াশোনার সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তাদের পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটছে। অনেক শিক্ষার্থীকে অন্ধকারে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। কেউ কেউ অতিরিক্ত গরমের কারণে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখতে পারছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু শহরাঞ্চল নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা বেড়েছে। কখন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং কখন ফিরে আসছে, তার নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি অনেক ক্ষেত্রে জানা যাচ্ছে না। ফলে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—সবখানেই তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অফিস-আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে। কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জামনির্ভর কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতেও অনেককে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং থেকে দ্রুত পরিত্রাণ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের মতে, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্টরা জানান, জুন ও জুলাই মাসে তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। একই সময়ে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন কারণে কিছু উৎপাদন কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। ফলে চাহিদার তুলনায় পিরোজপুরে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও ধীরে ধীরে কমে আসবে। এতে জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন পিরোজপুরের বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।