টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ছয়ানী বকশিয়া এলাকায় আতাউর রহমান ওরফে আতর আলীর বিরুদ্ধে জমি জবরদখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। মানববন্ধন থেকে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার সকাল ৯টায় উপজেলার ছয়ানী বকশিয়া বাজারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বকশিয়া, আথাইল শিমুল ও বীর সিংহসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের তিন শতাধিক ভূক্তভোগী ও সচেতন মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত আতর আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা ধরনের অন্যায়-অত্যাচার ও অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। তার মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের জমি জবরদখল করা, ভয়ভীতি দেখানো এবং এলাকার শান্ত পরিবেশ বিনষ্ট করা। প্রতিবাদ করলে বা তার অন্যায় মেনে না নিলে নিরীহ মানুষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে চরম ভোগান্তিতে ফেলা হয়।
বক্তারা আরও জানান, আতর আলীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে এর আগে গত ১ আগস্ট একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনের পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলেও তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আসেন। জামিনে বেরিয়ে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এমনকি যারা সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন, তাদের ধারাবাহিকভাবে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে বর্তমানে পুরো এলাকার মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়:
অভিযুক্ত আতর আলীকে অবিলম্বে পুনরায় গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
জবরদখল করা সব জমি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলাগুলো তদন্তের মাধ্যমে অবিলম্বে প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নিতে হবে।
অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও ঘাটাইল উপজেলার ছয়ানী বকশিয়া গ্রামের কৃতী সন্তান মো. শাহজাহান আলীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা ফরমান আলী খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান তালুকদার, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য জাফর আলী, মোজাম্মেল হোসেন তুলা, মধুপুর দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা কামরুল হাসান, ফরিদ খান, জিয়াউর রহমান জিয়া এবং রনি তালুকদার।
সমাবেশ থেকে বক্তারা স্পষ্ট বার্তা দেন যে, কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়; বরং আইনি পথেই অপরাধীর বিচার হওয়া প্রয়োজন। তারা আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এলাকাবাসীর জমি ও জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।