তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি অবলম্বন না করে বিদ্যমান নিয়মকানুন যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ বা রেগুলেট করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের মূল কাজ নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং নিয়মকানুনের সঠিক প্রয়োগ ও সার্বিক দিক সমন্বয় করা।
আজ রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় নতুন তথ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, "আমাদের সবাইকে একটি বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে মাথায় রাখতে হবে। আমরা অবশ্যই এই মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দায়িত্ব ও কার্যক্রম রেগুলেট করব। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই যাতে আমরা কোনো বিষয় কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণের দিকে ধাবিত না হই।"
নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ তায়ালা দেশ ও জনগণের সেবা করার অনেক বড় একটি সুযোগ আমাদের দিয়েছেন। এই দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের সমস্ত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং সকল ইতিবাচক অর্জন সততা, স্বচ্ছতা ও শতভাগ বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে দেশের জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া মন্ত্রণালয়ের একটি অনেক বড় দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধসহ জাতীয় পর্যায়ের যেসব ঐতিহাসিক অর্জন নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ গর্ববোধ করে, সেসব বিষয়ে যেন সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব হয়—সেই গুরুদায়িত্ব সকলকে একযোগে পালন করতে হবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কঠিন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দক্ষ নেতৃত্বে এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, "আমরা কাজ করার ক্ষেত্রে শতভাগ এফোর্ট দিচ্ছি। মানুষ মাত্রই ভুল-ত্রুটি হতে পারে, আমাদের কাজের মধ্যেও ভুল হতে পারে। তবে নৈতিকতার দিক থেকে আমরা অত্যন্ত স্ট্রং বা শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছি।"
ইতিহাসের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনে দেশের গণমাধ্যম বা সংশ্লিষ্টদের যে বলিষ্ঠ অবদান ছিল, সেটিকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখার বা অবমূল্যায়ন করার ন্যূনতম সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য ও ইচ্ছা হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি সম্পূর্ণ নতুন ইতিবাচক দিকে নিয়ে যাওয়া। আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অতীতে যে ড্যামেজগুলো হয়েছে সেগুলো দ্রুত রিপেয়ার করা এবং কাজের সুবিধার্থে একটি নিউ সিস্টেম ডেভেলপ করা।"
সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, "আমরা নিশ্চিত করতে চাই যাতে আমাদের কারও মাধ্যমে কোনো অন্যায় না হয়। আমরা চাই আগামীতে সবাই মিলে চমৎকার টিমওয়ার্কের মাধ্যমে সঠিক ও সুন্দরভাবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করব।"
নতুন গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আগমন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। এ সময় মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাগণ তাঁকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ৯টায় মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচয়, শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডাক্তার জাহেদ উর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।