নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সৃজনশীল ও মননশীল বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে নারায়ণগঞ্জের বিদ্যানিকেতন হাই স্কুলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘ক্লাসরুমের পাশে বইমেলা’।
‘কৈশোর তারুণ্যে বই’ এই বইমেলার আয়োজন করেছে। এতে অ্যাডর্ন, সময়, ইকরিমিকরি, জাগৃতি, অনুপম, অনন্যাসহ বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘কৈশোর তারুণ্যে বই’-এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান তুষার আবদুল্লাহ, প্রকাশক মিলন কান্তি দে, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, পরিচালনা পরিষদের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহেল ও আফরোজা আক্তার লিমা এবং বিদ্যানিকেতন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার সাহা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, শিশু-কিশোরদের মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশে বই পড়ার অভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাঠ্যবইয়ের বাইরে নিয়মিত ভালো বই পড়লে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, মনন ও সৃজনশীলতা বিকশিত হয়। একটি ভালো বই একজন শিশু-কিশোরের চিন্তা ও মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সীমাবদ্ধ রাখলে তাদের পরিপূর্ণ বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সৃজনশীল ও মননশীল বই পড়ার মাধ্যমে তারা নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারে এবং নিজেদের চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ পায়।
বিদ্যানিকেতন হাই স্কুলে ‘ক্লাসরুমের পাশে বইমেলা’ আয়োজনের ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের নিয়মিত শিক্ষাকার্যক্রমের পাশাপাশি সহজেই বিভিন্ন ধরনের বইয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়বে এবং পাঠাভ্যাস গড়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
তিন দিনব্যাপী এই বইমেলায় শিক্ষার্থীরা ক্লাসের ফাঁকে এবং অবসর সময়ে বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল বই দেখার ও কেনার সুযোগ পাচ্ছে। বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্টলে শিশু-কিশোরদের উপযোগী নানা ধরনের বই রাখা হয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সৃজনশীল বই পড়ার সুযোগ তৈরি করাই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বইয়ের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করতে সহায়তা করবে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং তাদের সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।