দেশের হাজার হাজার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দ্রুত এমপিওভুক্তকরণের সুনির্দিষ্ট একদফা দাবিতে আজ রাজধানী ঢাকার রাজপথে নামছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও কর্মচারীরা। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে দীর্ঘদিন কোনো প্রকার বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা এসব শিক্ষক-কর্মচারী তাঁদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সোমবার রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দিনব্যাপী অবস্থান ও নিবিড় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন।
সংগঠকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ সোমবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই বৃহৎ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তাদের এই অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের জন্য শর্তসাপেক্ষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করেছে। সম্পূর্ণ বেতন-বিহীন দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস সামনে রেখে গঠিত 'বাংলাদেশ নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদ'-এর সার্বিক তদারকি ও ব্যবস্থাপনায় এই আন্দোলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে রবিবার আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে ডিএমপি বরাবরে জমা দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র পর্যালোচনা করে কিছু নির্দিষ্ট বিধিমালা মেনে অবস্থান কর্মসূচির চূড়ান্ত অনুমতি দেয় পুলিশ প্রশাসন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) মো. মাহবুব হোসেন কামালের সাক্ষরিত একটি দাপ্তরিক অনুমতিপত্রে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়সীমা ও অনুমোদিত নির্দিষ্ট স্থানে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রেখে অবস্থান ও মানববন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অক্ষুণ্ণ রাখা এবং সাধারণ জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই কর্মসূচি আয়োজনে মোট ২১টি কঠোর শর্ত বেঁধে দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
পুলিশ প্রশাসনের দেওয়া শর্তাবলির উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—অনুমোদিত স্থানের বাইরে রাজপথের কোনো অংশে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নতুন করে জমায়েত হওয়া যাবে না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো কর্মসূচি সফলভাবে গুটিয়ে নিতে হবে। এর পাশাপাশি দেশের সর্বস্তরের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কোনো স্পর্শকাতর বক্তব্য প্রদান কিংবা বিতর্কিত প্রচার করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে বলা হয়েছে। রাজপথে কোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া কিংবা নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এমন যেকোনো বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড থেকে আন্দোলনকারীদের শতভাগ দূরে থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই সাথে সমাবেশ ও মানববন্ধন চলাকালীন কর্মসূচিস্থলে বা আশপাশে কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য বহন বা ব্যবহার করা যাবে না। নগরীর শান্তি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কার্যকলাপ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং উপস্থিত সবাইকে সার্বিকভাবে দায়িত্বরত পুলিশের দেওয়া দিকনির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্য করা হয়েছে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যবহৃত যানবাহনের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আয়োজক সংগঠনের নিজস্ব উদ্যোগে সুনির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ডিএমপির স্মারকে আরও বলা হয়, এই কর্মসূচির দরুন সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো যাবে না এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার জন্য আয়োজক কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে।
এদিকে আজকের এই গণমুখী আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম অত্যন্ত ক্ষোভ ও আক্ষেপের সাথে জানান, দেশের হাজার হাজার নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী বছরের পর বছর কোনো প্রকার সরকারি বেতন-ভাতা ছাড়াই অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁদের এক ও অভিন্ন দাবি—যোগ্য ও শর্তপূরণকারী নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করে শিক্ষকদের বেঁচে থাকার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যৌক্তিক দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।