ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, নগর উন্নয়নে প্রযুক্তি বিনিময়ে জোর


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১:২৭ পিএম

বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ এবং স্থানীয় শাসনব্যবস্থাকে আধুনিক ও টেকসই করার লক্ষ্যে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক। টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানি বণ্টন, আধুনিক বর্জ্য নিষ্কাশন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং কৃষি ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধ জ্ঞান ও বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।


২৪ আগস্ট সকালে রাজধানী ঢাকায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সাথে কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা এবং স্থানীয় সরকার খাতকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির আলোয় ঢেলে সাজানোর সার্বিক সম্ভাব্যতা নিয়ে দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ দুই দেশের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।


সংলাপকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে পরিবেশগত সুরক্ষা এবং কৃষিপণ্যের অপচয় রোধে কার্যকর সমাধানের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, নবায়নযোগ্য শক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং পল্লী অঞ্চলের কৃশিক পণ্যের সতেজতা সুরক্ষায় কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা বাড়ানোর মতো জনবান্ধব খাতগুলোতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে চায়। এ সকল মৌলিক উন্নয়ন ইস্যুতে বিশ্বমঞ্চে প্রযুক্তির শীর্ষে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও দীর্ঘদিনের প্রায়োগিক সক্ষমতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। উভয় দেশের বিশেষজ্ঞ দল ও গবেষণা কাঠামোর মধ্যে সরাসরি অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথ প্রযুক্তিগত কর্মসূচি গ্রহণ করা সম্ভব হলে দেশের সার্বিক প্রবৃদ্ধি আরও বেশি টেকসই এবং দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেবে।


সরকারের দূরদর্শী দর্শনের উল্লেখ করে মন্ত্রী বৈঠকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন যে, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ সরাসরি জনগণের ক্ষমতায়নে গভীরভাবে বিশ্বাস করে। জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল রাখাই এই মুহূর্তে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। জনগণের দোড়গোড়ায় নাগরিক সেবা সহজে পৌঁছে দেওয়ার স্বার্থে দেশের তৃণমূল ও শহরাঞ্চলের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল এবং জবাবদিহিমূলক করে তুলতে নানামুখী প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, একটি বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি ও নাগরিক জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিতে আধুনিক বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থার বাস্তবায়ন এখন সরকারের সর্বাধিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের তালিকাভুক্ত।


বৈঠকের প্রাথমিক পর্যায়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি গুরুত্বের সাথে স্মরণ করিয়ে দেন যে, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন কার্যক্রমসমূহ সরাসরি বাংলাদেশের একেবারে সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের প্রত্যাহিক জীবনযাত্রার সাথে গভীরভাবে যুক্ত। এই জনবান্ধব খাতের যেকোনো মানোন্নয়ন সরাসরি সুফল এনে দেয় সাধারণ নাগরিক জীবনে। সেই বাস্তবতায়, বাংলাদেশের নগর ও গ্রামীণ মানুষের কল্যাণে পরিচালিত এসব সেবা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং অংশীদারিত্ব নিরবচ্ছিন্নভাবে বজায় রাখার ব্যাপারে মার্কিন সরকারের সুদৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।


আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রকাশ করেন যে, সরকারপ্রধান স্বয়ং নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছেন। এই বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়ের কোনো বিকল্প নেই। বৈঠকে উভয় পক্ষই যৌথভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের এই অংশীদারিত্ব স্থানীয় সরকার অবকাঠামো গঠনে নতুন দিকের উন্মোচন করবে। আগামী দিনগুলোতে প্রযুক্তিগত যোগাযোগ ও দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা কেবল বিস্তৃতই হবে না, বরং উভয় দেশের জনগোষ্ঠীর জন্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে।


হাই-প্রোফাইল এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে যুক্ত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য দায়িত্বশীল নীতি-নির্ধারক কর্মকর্তাবৃন্দ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর