ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

তিউনিশিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, ১২ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৯:৪১ পিএম

উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর দেশটির ন্যাশনাল গার্ড একজনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন দুজন, তাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

তিউনিশিয়ার ন্যাশনাল গার্ড জানিয়েছে, ১৫ জন অভিবাসী নিয়ে একটি নৌকা শুক্রবার রাতে দেশটির উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে। ইউরোপে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে যাত্রা করা নৌকাটি কিছু দূর যাওয়ার পর দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ডুবে যায়।

জারজিস উপকূল থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে সমুদ্রে নৌকাডুবির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ন্যাশনাল গার্ড। অভিযানের শুরুতে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও নয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ জনে।

একই ঘটনায় একজন অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে নৌকায় থাকা বাকি দুজনের কোনো সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। তাদের জীবিত বা মৃত অবস্থায় খুঁজে বের করতে সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তিউনিশিয়ার ন্যাশনাল গার্ড।

উদ্ধার হওয়া ও নিখোঁজ অভিবাসীদের মধ্যে ১৪ জন লিবিয়ার বেন গুয়ের্দানে শহরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। নৌকাডুবির ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ওই শহরে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করে নৌকাডুবির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা রাস্তায় টায়ার জ্বালান। ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

তিউনিশিয়া থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য ভূমধ্যসাগরীয় সমুদ্রপথ ব্যবহার করেন হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী। ইউরোপের দেশ ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপ থেকে তিউনিশিয়ার দূরত্ব প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার হওয়ায় এই রুটটি ইউরোপমুখী অনিয়মিত অভিবাসীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত।

তবে মধ্য-ভূমধ্যসাগরের এই সমুদ্রপথকে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন রুট হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম)। প্রতিকূল আবহাওয়া, অতিরিক্ত যাত্রীবাহী ছোট নৌকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে প্রায়ই এ পথে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে মধ্য-ভূমধ্যসাগরীয় রুট দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে অভিবাসীদের মৃত্যুর সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত এই পথে অন্তত ৯১৪ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।

অনিয়মিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে তিউনিশিয়া। সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও জীবনবাজি রেখে অভিবাসীদের ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: এএফপি


এ সম্পর্কিত আরো খবর