ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১৪ বছর পর পর্দায় ফিরেই তোলপাড়, দেব-শুভশ্রীর রসায়নে নতুন গুঞ্জন টলিপাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ৪৯৪ কোটি টাকার তামাক আটক পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯ সখীপুরে মাটির নিচে মিলল দুটি বাক্স, উদ্ধার রকেট লঞ্চারসদৃশ ১২ বস্তু মদ ও সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নির্যাতন আমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিব আখতার আহমেদ আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি: ভারতের নতুন নীতি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পাই ড্রোন’ আটক করল ইরান এআই দেখে বিষাক্ত মদ তৈরি: ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

তিউনিশিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, ১২ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৯:৪১ পিএম

উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর দেশটির ন্যাশনাল গার্ড একজনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন দুজন, তাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

তিউনিশিয়ার ন্যাশনাল গার্ড জানিয়েছে, ১৫ জন অভিবাসী নিয়ে একটি নৌকা শুক্রবার রাতে দেশটির উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে। ইউরোপে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে যাত্রা করা নৌকাটি কিছু দূর যাওয়ার পর দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ডুবে যায়।

জারজিস উপকূল থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে সমুদ্রে নৌকাডুবির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ন্যাশনাল গার্ড। অভিযানের শুরুতে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও নয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ জনে।

একই ঘটনায় একজন অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে নৌকায় থাকা বাকি দুজনের কোনো সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। তাদের জীবিত বা মৃত অবস্থায় খুঁজে বের করতে সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তিউনিশিয়ার ন্যাশনাল গার্ড।

উদ্ধার হওয়া ও নিখোঁজ অভিবাসীদের মধ্যে ১৪ জন লিবিয়ার বেন গুয়ের্দানে শহরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। নৌকাডুবির ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ওই শহরে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করে নৌকাডুবির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা রাস্তায় টায়ার জ্বালান। ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

তিউনিশিয়া থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য ভূমধ্যসাগরীয় সমুদ্রপথ ব্যবহার করেন হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী। ইউরোপের দেশ ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপ থেকে তিউনিশিয়ার দূরত্ব প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার হওয়ায় এই রুটটি ইউরোপমুখী অনিয়মিত অভিবাসীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত।

তবে মধ্য-ভূমধ্যসাগরের এই সমুদ্রপথকে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন রুট হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম)। প্রতিকূল আবহাওয়া, অতিরিক্ত যাত্রীবাহী ছোট নৌকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে প্রায়ই এ পথে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে মধ্য-ভূমধ্যসাগরীয় রুট দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে অভিবাসীদের মৃত্যুর সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত এই পথে অন্তত ৯১৪ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।

অনিয়মিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে তিউনিশিয়া। সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও জীবনবাজি রেখে অভিবাসীদের ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: এএফপি


এ সম্পর্কিত আরো খবর