দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ও মৃত্যুর হার। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে আরও ৭ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এই রোগ এবং রোগের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭১ জন শিশু।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হাম সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে সরাসরি হামের উপসর্গে। তবে আলোচ্য সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। সব মিলিয়ে চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৫১ জন শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৯ জন শিশুর। ফলশ্রুতিতে দেশে হাম এবং এর তীব্র উপসর্গ—এই জোড়া কারণে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৯৫০ জনে।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ৭৩ জন শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। অন্যদিকে, একই দিনে আরও ১ হাজার ৯৮ জন শিশু হামের নানা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজনে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৯ জন নতুন শিশুকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে সুস্থতা লাভ করায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৫৪ জন শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব ও তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সারা দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সর্বমোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৬ জনে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামের রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৬৫১ জন।
সংক্রমণের এই সময়ের মধ্যে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৩ জন শিশু বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৫ জন শিশু যথাযথ চিকিৎসা পেয়ে আরোগ্য লাভ করে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে সুস্থভাবে বাড়ি ফিরে গেছে বলে নিশ্চিত করেছে অধিদপ্তর।