ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

মার্কিন চাপে দিশেহারা ইরান, নতুন অর্থনৈতিক বিক্ষোভের শঙ্কা


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৭:১১ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলায় ব্যর্থ হবে না বলে দাবি করছে ইরান। তবে একই সঙ্গে দেশটিতে নতুন করে অর্থনৈতিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন সরকার। ইরানের অন্যতম শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপ সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যার ফলে আবারও মানুষ রাজপথে নামতে পারে।

সোমবার ইরানের কট্টরপন্থি পুলিশ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ-রেজা রাদান তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, শত্রুপক্ষ মানুষের জীবিকা, জ্বালানি, অর্থনীতি ও বেকারত্বের মতো বিষয়কে কাজে লাগিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক করেন তিনি।

ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ চালুর ঘোষণা দেওয়ার পরই ইরানের পক্ষ থেকে এমন সতর্কবার্তা এসেছে। এই কর্মসূচির আওতায় তেহরানকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্য রয়েছে।

এদিকে অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ইরানের মুদ্রাবাজারেও এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চলতি সপ্তাহে দেশটির খোলা বাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য ২০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশটির মুদ্রার রেকর্ড অবমূল্যায়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সময়ে সাধারণ মানুষ ওষুধ ও পেট্রোলের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটেও পড়েছেন।

আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ইরানের অর্থনীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। পাশাপাশি দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৬৮ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থনীতির এমন দুর্বল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে পেট্রোলের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতিকে বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে দেখছে ইরান সরকার। মার্কিন নৌ অবরোধের প্রভাবে দেশটির জ্বালানি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তেহরান, মাশহাদ ও কারমানের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে বলেও জানা গেছে।

পেট্রোলের দাম নিয়ে ইরানের অতীত অভিজ্ঞতাও সরকারকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ২০১৯ সালে আকস্মিকভাবে জ্বালানির দাম বাড়ানোর পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই আন্দোলনে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় এবার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রাখছে সরকার।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইরানে হওয়া রক্তক্ষয়ী সরকারবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিও এখনও তাজা। কর্তৃপক্ষের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবে নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার। এসব ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ নতুন করে বিস্ফোরিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইরানের পুলিশ কমান্ডার রাদান দ্রুত সাড়াদানকারী দল ও আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সমাজের ‘অন্ধকার স্তরগুলোতে’ নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন কোনো আন্দোলন শুরু হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

সূত্র: আল-মনিটর


এ সম্পর্কিত আরো খবর