ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৩১, ২৯১ বিদেশিসহ নিখোঁজ ৪০০


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৮:৩৪ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৪০০ পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক। এ ছাড়া বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে।


নেপালের ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়। আরও ১১১ জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। শনাক্ত হওয়া অন্যদের মধ্যে নেপালের স্থানীয় নাগরিক ছাড়াও যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের নাগরিক রয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্যা ও ভূমিধসে ৩১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুর্গত বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার কার্যক্রমে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।


বুধবার ভোরে নেপালের রাসুওয়া জেলায় চীন সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে পানি ঢুকে পড়ে বিভিন্ন গ্রামে। বন্যার প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপে বাড়িঘর চাপা পড়েছে।


নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, হিমালয়সংলগ্ন চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় সকালে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরপর তুষারধসের ঘটনা ঘটে এবং সেখান থেকেই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে নেপাল সরকার।


মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের সময় ও বন্যার সূত্রপাতের সময় কাছাকাছি হওয়ায় দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


শিশির খানাল জানিয়েছেন, দুর্গত এলাকায় নেপালের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনী উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ২৬ পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সামরিক সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ সদস্যদের সন্ধানে অভিযান চলছে।


কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজন ভক্ত কায়স্থ জানিয়েছেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, তুষারধসের কারণে লহেন্দে নদীর পানিপ্রবাহ আটকে যায়। পরে বিপুল পরিমাণ পানি একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে আসায় ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। একই সময়ে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্রও বিবেচনা করা হচ্ছে।


বন্যার পানির তীব্র স্রোতে নদীর আশপাশের বাড়িঘর ভেসে যাওয়ার চিত্রও সামনে এসেছে। অনেক এলাকায় কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ভবনের কিছু অংশ দৃশ্যমান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের উদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সদস্যদেরও উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় আটকে থাকা মানুষদের শনাক্ত করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।


এদিকে বন্যায় দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও যোগাযোগ কার্যক্রমও কঠিন হয়ে পড়েছে।


বন্যার কারণে নেপালের বেশ কয়েকটি মহাসড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।


এদিকে নেপালের ভয়াবহ বন্যার প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী তিব্বতেও। চীন সীমান্তবর্তী গিরং বন্দরে ব্যাপক হতাহত এবং বহু মানুষ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নেপালের অংশে বন্যার পানির প্রবল স্রোত সীমান্তের ওপারের এলাকাতেও প্রভাব ফেলেছে।


তিব্বতের কৈলাস মানসসরোবরে যাওয়া প্রায় ৪০০ তীর্থযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় তাঁদের উদ্ধারে যোগাযোগ ও যাতায়াত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরির কাজ চলছে। তবে তিব্বতে ঠিক কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া যায়নি।


নেপালের এই আকস্মিক দুর্যোগে একদিকে যেমন প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুষারধস, নদীর প্রবাহ আটকে যাওয়া এবং ভূমিকম্পের সম্ভাব্য প্রভাব—সবকিছুই ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর