ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

সৌরবিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগে আগ্রহী চীন: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী


স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১১:৪৮ এএম

বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ তৈরিতে চীনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক বিনিয়োগের তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এই ইতিবাচক অগ্রগতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

 

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মেগা প্রকল্পে চীনের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান সিএমইসি ইতোমধ্যে তাদের প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিশেষ প্রকল্প থেকে আগামী দেড় বছরের মধ্যে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে টানা ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উক্ত প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামী ২ সেপ্টেম্বর তিনি চীন সফরে যাবেন বলেও নিশ্চিত করেন। এ ছাড়া রাজধানীর আমিনবাজার এলাকার ল্যান্ডফিল এবং সামগ্রিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণে চীনের সার্বিক কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতার বিষয়েও দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে বৈঠকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দেশের তৃণমূল পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, গ্রামীণ হাটবাজার, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশনের সরকারি ভবনের ছাদে ব্যাপকভাবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনের বিনিয়োগ ও সরাসরি সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবহার করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। দিনের বেলা সৌরবিদ্যুৎ এবং রাতের বেলায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। এ সম্ভাবনাময় খাতে বৃহৎ বিনিয়োগে চীনের একাধিক ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সম্মতি প্রকাশ করেছে।

 

প্রতিমন্ত্রী জানান, শুধু এককভাবে সৌরবিদ্যুৎ নয়, বরং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চীনের ধারাবাহিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলে দীর্ঘদিনের জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ তৈরির বৃহৎ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে চীনা প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ার চায়না’কে দ্রুততম সময়ে কার্যক্রম শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে দৈনিক প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

 

আমিনবাজারের ৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্পটি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রকল্পটির আইনি চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাবে, সে হিসাবে ২০২৮ সালের আগস্ট বা সেপ্টেম্বর নাগাদ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের বিদ্যুৎ সংযোগ শুরু হবে। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছে ২১ টাকা ৭০ পয়সা। মূল্য কিছুটা বেশি হলেও বর্জ্য নিষ্কাশন, নগর পরিষ্কার রাখা, পরিবেশ রক্ষা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর সুদূরপ্রসারী সুফল বিচারে এটি অত্যন্ত লাভজনক। পাশাপাশি এ প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত বর্জ্য থেকে মানসম্মত জৈব সার পাওয়া যাবে এবং জমি ব্যবহারের জন্য বিনিয়োগকারী সংস্থা সিটি করপোরেশনকে নিয়মিত ভাড়া দেবে, যাতে সরকারের নিজস্ব কোনো অর্থ বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না।

 

এদিকে পয়োনিষ্কাশন খাতে ঢাকার দাসেরকান্দি প্রকল্পে চীন আরও বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। মীর শাহে আলম বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই প্রকল্পের বর্তমানে মাত্র ৩০ শতাংশ কার্যক্রম চালু আছে। বাকি ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে ঋণ বা অনুদানের মাধ্যমে অর্থায়নে আগ্রহী চীন। এর পাশাপাশি গুলশান, বারিধারা ও বনানী এলাকার পয়োনিষ্কাশন লাইন যুক্ত করতে ১ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে, যেখানে চীনা বিনিয়োগ এলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর আর্থিক চাপ অনেকটাই লাঘব হবে।

 

অন্যদিকে চীনা অনুদান ও বিনিয়োগে রাজধানীর কড়াইল, সাততলা এবং ভাষানটেক বস্তিতে সমন্বিত আধুনিক আবাসন নির্মাণের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রস্তাব চীনের কাছে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। প্রতিমন্ত্রী জানান, বস্তিবাসীদের বিনামূল্যে আধুনিক ফ্ল্যাটে থাকার সুযোগ দিতে পরিকল্পিত এই ২০ তলা বিশিষ্ট আবাসন প্রকল্পে চীন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে অর্থায়নে সম্মত হয়েছে। ইআরডির মাধ্যমে পাঠানো এই প্রস্তাবটি বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কাছেও হস্তান্তরিত হয়েছে।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর