ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

বস্তিবাসীদের দিতে হবে না ভাড়া

তিন বস্তিতে ১০ হাজার কোটি টাকার আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে চীন


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১:০২ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী গুলশান ও ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত করাইল, সাততলা ও ভাষানটেক বস্তির নিম্নআয়ের বাসিন্দাদের জন্য আধুনিক আবাসন নির্মাণে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সুবিশাল প্রকল্পে বিনিয়োগে নিজেদের সম্মতি প্রকাশ করেছে চীন। তবে সম্পূর্ণ অর্থ একসাথে বিনিয়োগ করা সম্ভব না হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে দেশটি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মতি ব্যক্ত করেন। দ্বিপাক্ষিক ওই বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।

 

প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুলশান এরিয়া ও ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকার অধীন তিনটি প্রধান বস্তি— করাইল, সাততলা ও ভাষানটেক এলাকার অধিবাসীদের আবাসনব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চীনের কাছে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এই বিশেষ উদোগের আওতায় সম্পূর্ণ আধুনিক ও নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে, যেখানে নিম্নআয়ের গৃহহীন বস্তিবাসীরা বিনা ভাড়ায় পরিবারসহ বসবাস করার সুযোগ পাবেন। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ এই সুবিশাল আবাসন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর মাধ্যমে চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাথেও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়। চীনা প্রতিনিধিদল প্রস্তাবটি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়েছে।

 

মীর শাহে আলম স্পষ্ট করে বলেন, চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সম্পূর্ণ অর্থ যদি একযোগে বিনিয়োগ করা সম্ভব না-ও হয়, তবে তারা দেশের অগ্রাধিকারের ওপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা ও প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্প এলাকায় ২০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে প্রতিটি আবাসিক ইউনিটের আয়তন থাকবে আনুমানিক ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ বর্গফুট। এসব সুরক্ষিত সুবিন্যস্ত ফ্ল্যাটে বর্তমানে বসবাসরত বস্তিবাসীদের পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সসম্মানে পুনর্বাসিত করা হবে। সেখানে অবস্থানকালে তাঁদের কাছ থেকে মাসিক ঘরভাড়া বাবদ কোনো অর্থ আদায় করা হবে না। তবে বাসাগুলোর দৈনন্দিন ব্যবহৃত বিদ্যুৎ, পানি ও অপরাপর ইউটিলিটি পরিষেবা ব্যবহারের যাবতীয় খরচের দায়ভার বাসিন্দাদের নিজেদের বহন করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

 

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উক্ত বস্তিগুলোতে বর্তমানে স্থায়ীভাবে বসবাসরত পরিবারগুলোর একটি নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়নের প্রাথমিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, তালিকাভুক্ত প্রকৃত বস্তিবাসীদের কেউই আবাসন সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন না এবং পর্যায়ক্রমে সকল নিবন্ধিত পরিবারকেই এই অত্যাধুনিক নাগরিক আবাসনের আওতায় এনে পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হবে।

 

একই আলোচনায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সবুজ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনের অর্থায়ন বহুগুণ বাড়ানোর বিষয়েও উভয় দেশের মধ্যে বিস্তারিত কথা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, আমিনবাজারের ল্যান্ডফিলে জমে থাকা বর্জ্য থেকে টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদন মেগা প্রকল্পে একটি চীনা কোম্পানি বর্তমানে সফলভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পটি পুরোদমে চালু হলে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে দৈনিক ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা সরাসরি জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করা হবে। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এই প্রকল্প উৎপাদনে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। মূল অর্থায়ন চুক্তিটি সম্পন্ন হবে সমন্বিত বিনিয়োগকারী ব্যাংক, মূল চীনা কোম্পানি ও বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে।

 

পাশাপাশি দাসেরকান্দি পয়োনিষ্কাশন শোধনাগার প্রকল্প পূর্ণাঙ্গ ও শতভাগ কার্যকরভাবে চালু করতেও চীন সরকারের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে সুবিশাল এই প্রকল্পটির মাত্র ৩০ শতাংশ পয়োনিষ্কাশন সংযোগ সফলভাবে চালু রয়েছে, বাকি ৭০ শতাংশ কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। গুলশান, বারিধারা ও বনানী এলাকার পয়োনিষ্কাশন পাইপলাইন দাসেরকান্দি শোধনাগারের সাথে যুক্ত করতে ১ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। সেখানে চীনের অনুদান বা বিনিয়োগ এলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ থাকবে না। অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনেও চীনের বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে ফলপ্রসূ কথা হয়েছে। দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও হাটবাজারের সরকারি ভবনের খালি ছাদে ব্যাপকভাবে সোলার প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলে জমে থাকা ক্ষতিকর কঠিন বর্জ্য কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ তৈরিতেও চীনের সরাসরি টেকসই সাহায্য চাওয়া হয়েছে। এর দায়িত্বে থাকা ‘পাওয়ার চায়না’ কোম্পানিকে দ্রুততম সময়ে মাঠপর্যায়ের কাজ শুরুর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। এতে করে বর্জ্য থেকে দৈনিক আরও ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক দক্ষতা বাড়াতে ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানোর বিষয়ে চীনের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ, যেখানে চীনের অর্থায়নে বিনামূল্যে প্রশিক্ষক পাঠানোর প্রতিশ্রুতি মিলেছে। তা ছাড়া চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মংলা বন্দরের সার্বিক উন্নয়ন ও সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও চীনের গভীর আগ্রহ রয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে নিশ্চিত করেছেন প্রতিমন্ত্রী।



এ সম্পর্কিত আরো খবর