ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে মিলবে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৪:০০ পিএম

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেছেন যে, দেশের লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার ও গতিশীল করতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব উদ্ধার অভিযানে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা প্রদানকারী নাগরিকদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হবে। শনিবার আয়োজিত এপ্রিল-জুন ২০২৬ সময়কালের দ্বিতীয় কোয়ার্টারের দেশের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা নিশ্চিত করেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত এবং স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে সর্বসাধারণের কাছে একটি প্রকৃত জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় রূপান্তরিত করে এর ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে উজ্জ্বল করতে ধারাবাহিকভাবে কৌশলগত ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের গুরুত্ব অনুধাবন করে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করে সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান আরও জোরালো করা হয়েছে।


উদ্ধার অভিযানে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা উৎসাহিত করতে তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কারের পরিমাণ নতুন করে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। পুনর্নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের ভারী বা মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য সরবরাহকারীকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ পুরস্কার প্রদান করা হবে। এ ছাড়া পিস্তল, রিভলভার এবং শটগানের মতো ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রে তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে।


একই সঙ্গে সাউন্ড গ্রেনেড, বিভিন্ন স্থান থেকে লুট হওয়া টিয়ার গ্যাসের শেল এবং অন্যান্য লুণ্ঠিত সামরিক ও প্রশাসনিক সরঞ্জাম উদ্ধারে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতাকারীদের অস্ত্রের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার এবং ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কৃত করা হবে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, যেসব নাগরিক এসব অবৈধ অস্ত্রের তথ্য প্রদান করবেন, তাদের ব্যক্তিগত পরিচিতি সম্পূর্ণভাবে গোপন রাখা হবে এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


সম্মেলনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাতিলকৃত অস্ত্রের লাইসেন্স জমা না দেওয়ার আইনগত পরিণতি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, সরকারের দেওয়া নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যেসব বাতিলকৃত অস্ত্রের লাইসেন্স জমা দেওয়া হয়নি, সেই সমস্ত অস্ত্রকে ইতোমধ্যে অবৈধ অস্ত্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে গণ্য করা হয়েছে। এসব অবৈধ অস্ত্রের মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সেগুলো দ্রুত বাজেয়াপ্ত ও উদ্ধারে বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


অপরাধ দমনে পুলিশের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশজুড়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং বিপজ্জনক মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কার্যকর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যদি নির্ধারিত সময়সীমার ভেতরে কোনো কর্মকর্তা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য বা প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সরাসরি সহযোগিতায় অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ কৌশলগত ও সাঁড়াশি অভিযান দেশজুড়ে অব্যাহত থাকবে।


পুলিশ সদর দপ্তর আয়োজিত উক্ত অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন দেশের পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং সবাইকে স্বাগত জানিয়ে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনসহ দেশের বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, সকল মহানগর এলাকার পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং দেশের বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারবৃন্দ (এসপি) সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর