কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ, চরিত্র ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর ‘সিরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে নৈতিকতা, ন্যায়বিচার, শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে কটিয়াদী পৌর এলাকার স্বপ্নকুঞ্জ কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কটিয়াদী উপজেলা শাখার উলামা বিভাগের উদ্যোগে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা মুফতি শফিকুল ইসলাম নূরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটের অধ্যাপক মাওলানা ড. ফয়জুল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা উলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা ড. ফয়জুল হক বলেন, দুনিয়ার মোহ ও স্বার্থকে পেছনে ফেলে মহানবী (সা.)-এর জীবন থেকে সাহস, আদর্শ ও নৈতিকতার শিক্ষা নিয়ে মুমিনদের এগিয়ে যেতে হবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান ও নবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের চেষ্টা করতে হবে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসলামের নৈতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনের প্রতিটি দিক মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয়। তাঁর চরিত্র, নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও ক্ষমাশীলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সমাজের নানা সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মুফতি আহমদ শরিফ বিন আসাদ (চাঁদপুর), কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার, সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান ও নায়েবে আমির সাইদুল হক বিএসসি।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন ফেকামারা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল কাসেম বিপ্লব, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হাসান আল মামুনসহ স্থানীয় আলেম-ওলামা ও নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন শুধু ধর্মীয় অনুশাসনের বিষয় নয়; তাঁর জীবনে সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, ক্ষমাশীলতা ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। বর্তমান সময়ে সামাজিক অবক্ষয়, নৈতিক মূল্যবোধের সংকট ও পারস্পরিক অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।
তাঁরা আরও বলেন, মহানবী (সা.) মানুষের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি, ন্যায় ও কল্যাণের শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর সুন্নাহ ও আদর্শ ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে অনুসরণ করা গেলে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।
সম্মেলনে মহানবী (সা.)-এর জীবনের বিভিন্ন দিক, তাঁর চরিত্র, সমাজ সংস্কারে ভূমিকা এবং মানবতার প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ব্যক্তি ও সমাজজীবনে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে কটিয়াদীর বিভিন্ন এলাকার আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও উলামা বিভাগের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।