ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার

বিদ্যুতের ঘাটতি সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াল, ভয়াবহ লোডশেডিং


  • আপলোড সময় : রবিবার ৩০ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১০:১৯ এএম

অনলাইন রিপোর্টার

তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা হু-হু করে বাড়তে থাকায় দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শনিবার বিকালে বিদ্যুতের ঘাটতি সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামীণ এলাকায় দফায় দফায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় একদিকে জনজীবনে হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বাসাবাড়ি ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

 

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকাল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৪৬৯ মেগাওয়াট। তবে এর বিপরীতে সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৯৫২ মেগাওয়াট। ফলে এক ঘণ্টার ব্যবধানেই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫১৭ মেগাওয়াটে। এর আগে বিকাল ৩টায় এই ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬১২ মেগাওয়াটে, যদিও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘাটতি কিছুটা কমে ২ হাজার ৫৪২ মেগাওয়াটে নেমে আসে। কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের এই ওঠানামা এবং ঘাটতির পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

 

সাধারণত ছুটির দিনে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কম থাকলেও শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের মুখে পড়েন বাসিন্দারা। কোথাও এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর পর মুহূর্তেই চলে যায়, আবার কোথাও নির্দিষ্ট সময়ের বাইরেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের খবর পাওয়া গেছে। তীব্র গরমের মাঝে বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে পানির পাম্প চালানো সম্ভব হয়নি, যা অনেক এলাকায় খাবার পানির সংকট তৈরি করেছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, অনলাইনভিত্তিক কাজকর্ম এবং খুচরা ব্যবসায় ব্যাঘাত ঘটার পাশাপাশি রাতের বেলা ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক ঘুম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

 

ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন ও সাপ্লাই সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাহিদাপূরণে ব্যর্থতার মূল কারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া। গ্যাসের তীব্র সংকট থাকায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন নেমে এসেছে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে। একই সঙ্গে কয়লা ও জ্বালানি তেলের সরবরাহে সীমাবদ্ধতা থাকায় বিকল্প উৎস থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না।

 

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে ২ হাজার ৪৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট, যার মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে এসেছে ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে এসেছে ৮৪১ মিলিয়ন ঘনফুট। বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুততম সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যকার এই বড় ব্যবধান কমানো না গেলে এবং আগামী দিনগুলোতে গরমের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর