ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬,  ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথকে শীর্ষ জেনারেলদের সতর্কবার্তা রাজধানীতে ডিএমপির অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪১৬, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধার নতুন পে-স্কেল: মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠছে খসড়া, বৃহস্পতিবারই প্রজ্ঞাপন জারির সম্ভাবনা ট্রাম্পের দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসায় বিশেষ দূত সার্জিও গর লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পরই জর্ডানে ২ আমেরিকান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আমেরিকান জনমতে রেকর্ড পতনে ট্রাম্প, ইসরায়েলেও তোপের মুখে নেতানিয়াহু মাগুরায় শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ কটিয়াদীতে সিএনজি ও কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৩, আহত ৪ ডেঙ্গুতে এক দিনে আক্রান্ত ১০৯৭ ও ৩ জনের মৃত্যু মন্ট্রিলের বিপক্ষে মেসির ৪ গোল, মুগ্ধ সতীর্থ কাসেমিরো

২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে ব্যাপক সংস্কার আনছে সরকার: মাহদী আমিন


  • আপলোড সময় : রবিবার ৩০ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৪:৩৫ পিএম

২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের প্রচলিত শিক্ষাক্রমে ব্যাপক, যুগোপযোগী ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সুষম সমন্বয়ে একটি টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।


রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মাহদী আমিন বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, ২০২৮ সালের প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রমে বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি টেকসই ও আধুনিক শিক্ষাক্রমের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রস্তুত করা হবে। এর আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকগুলোতে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন, পরিবর্ধন, নতুন বিষয় সংযোজন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ অংশ বিয়োজনের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে।


মাহদী আমিন আরও জানান, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে বজায় থাকা স্থবিরতা দূর করে পূর্ণ শৃঙ্খলা ফেরাতে একটি স্বাধীন 'শিক্ষা সংস্কার কমিশন' গঠনের বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাঠ্যক্রমে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং খেলাধুলাভিত্তিক বেশ কিছু নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।


প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে মোট চারটি নতুন বই ও বিষয় যুক্ত করার কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক 'স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার' এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' ও 'টেকনিক্যাল এডুকেশন' অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিশ্বমানের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সাথে প্রারম্ভিক বয়সেই পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।


এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কৌশল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মাহদী আমিন বলেন, অতীতে পাসের হার ও মেধার কৃত্রিম চিত্র তুলে ধরতে জিপিএ-৫ বাড়ানোর অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবণতা ছিল। তবে এবার ফলাফলে কোনো ধরনের কৃত্রিম গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা একদম নিরপেক্ষ ও পুরোপুরি স্বচ্ছ মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত অর্জিত ফলাফল হাতে পেয়েছে।


তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া কিংবা এসএসসিতে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র কখনোই 'বোঝা' হিসেবে বিবেচনা করবে না। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট ও বিশেষ নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। এসব তরুণদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণে সরাসরি যুক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রয়োজনবোধে তাদের তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার সংস্থানও করা হবে।


দেশে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব কমাতে সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে 'এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ' বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালুর ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা তাদের অর্জিত দক্ষতার সকল তথ্য দিয়ে অনলাইনে বা সরাসরি নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যদিকে, বিভিন্ন দেশি-বিদেশি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী খুব সহজেই খুঁজে নেওয়ার সুযোগ পাবে।


প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, বেসরকারি খাতকে সার্বিকভাবে যুক্ত করে এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে এই বিশেষ উদ্যোগটি প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।


শিক্ষকতা পেশাকে তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে এবং শিক্ষকদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধিতে 'ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব' কর্মসূচির ঘোষণা দেন মাহদী আমিন। এই কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে সব স্তরের শিক্ষকদের হাতে আধুনিক ডিজিটাল ট্যাব তুলে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের আধুনিক ডিজিটাল প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ, ক্রমাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং তাদের আর্থিক ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সমন্বিত প্রয়াস চালানো হবে।


বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণার পরিবেশের মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান শক্তিশালী করতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব সমস্যা সমাধানে 'বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যৌথ গবেষণা' জোরদার করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ও গুণী শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে 'ব্রেন ড্রেন'কে 'ব্রেন সার্কুলেশনে' রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে এবং গবেষণায় সরকারি বরাদ্দ বহুগুণ বাড়ানো হবে। গ্রাম ও শহরের স্কুলের বৈষম্য কমাতে 'প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট' ও 'ইনোভেশন কম্পিটিশন' নিয়মিত আয়োজন করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর