কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের কটিয়াদীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনসহ মোট চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের তেঁভাগা এলাকায় রিল্যাক্স রেস্টুরেন্টের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন—ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কলাপাড়া গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে মিলন মিয়া (৪০), হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকালচর এলাকার বদিউল আলমের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার (৪৫) এবং তাঁর নাতনি জারামনি (৮)।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে মিলন মিয়া ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। অন্যদিকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রাবেয়া আক্তার ও তাঁর নাতনি জারামনিকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত চারজন হলেন—বদিউল আলম (৫০), তাঁর নাতি আতিকুল ইসলাম (৮), নাতনি প্রিয়া আক্তার (২২) ও মেয়ে বর্ণা বেগম (৩০)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বদিউল আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ময়মনসিংহের নান্দাইলে মেয়ের বাড়ি থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে নিজ বাড়ি হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। দুপুরে তাঁদের বহনকারী অটোরিকশাটি কটিয়াদীর তেঁভাগা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি মুহূর্তে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং যাত্রীরা সড়কে ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার যাত্রী মিলন মিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষার মাধ্যমে রাবেয়া আক্তার ও শিশু জারামনিকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত অপর চারজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মহাসড়কে দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে কটিয়াদী হাইওয়ে থানার পুলিশ দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং নিহত মিলন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার ফলে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কটিয়াদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবীনূর রহমান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়া মাত্রই হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ড ভ্যানটি পুলিশি হেফাজতে জব্দ করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।