বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণে অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় তাঁকে দুদকের সেগুনবাগিচাস্থ প্রধান কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য প্রদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সমকালকে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।দুদকের পরিচালক মো. আবুল হাসনাতের সই করা এক নোটিশে বলা হয়েছে, সাবেক সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ‘বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ জমা পড়েছে দুদকের কাছে। এই অভিযোগটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অনুসন্ধানের লক্ষ্যে সংস্থার পরিচালক আবুল হাসনাতকে দলনেতা এবং উপপরিচালক মোজাম্মিল হোসেনকে সদস্য করে উচ্চপর্যায়ের একটি দুই সদস্যের বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।
তলবি নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়, সাবেক সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আইনানুগ অনুসন্ধানের স্বার্থে শফিউদ্দিন আহমেদের প্রত্যক্ষ বক্তব্য সরাসরি শোনা ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। এ কারণে, তাঁকে অবশ্যই তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি ও ফটোকপি সঙ্গে নিয়ে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে বক্তব্য না দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
দুদকের নথি এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য অনুযায়ী, সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল গত ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর।
জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ২০২১ সালের ২৪ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তৎকালীন জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছ থেকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলেন। দীর্ঘ তিন বছর নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৪ সালের ২৩ জুন তিনি সেনাবাহিনী থেকে স্বাভাবিক অবসরে যান। সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালনকালে তিনি সেনাবাহিনীর নিয়মিত কার্যক্রোমের পাশাপাশি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সম্মানিত সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।