ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর

‘ভূত’ হয়েও মিছিলে যোগ দিলেন দুই আ.লীগ নেতা, যশোরে পুলিশের আজব মামলা!


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১২:৩৪ পিএম

যশোরে পুলিশের দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি চাঞ্চল্যকর মামলায় ১২ ও ৪ বছর আগে মারা যাওয়া আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে আসামি করার ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ সময় আগে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের এভাবে নাশকতার মামলায় জড়ানোর ঘটনা সামনে আসার পর মামলার আসামিদের তালিকা ও পুলিশের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে নানা রকম গুরুতর প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।


গত ৩০ আগস্ট কোতোয়ালি থানায় মোট ১১৩ জনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন যশোর শহরের পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম। দায়ের করা ওই মামলায় রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।


দায়েরকৃত মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এতে ৫৬ নম্বর আসামি হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে উপশহর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ডা. তবিবর রহমানকে। অথচ স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তিনি দীর্ঘ চার বছর আগে ২০২২ সালেই মৃত্যুবরণ করেছেন। কেবল তিনিই নন, একই মামলার ৭৭ নম্বর আসামি হিসেবে নাম থাকা আনসার আলী নামের আরেক ব্যক্তি ২০১৪ সালে মারা যান, যা প্রায় ১২ বছর আগের ঘটনা।


পুলিশের প্রস্তুতকৃত এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট যশোর শহরের কাজীপাড়া এলাকায় সরকারবিরোধী এবং নাশকতামূলক বিক্ষোভ মিছিল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। ওই কথিত বিক্ষোভের অভিযোগে তাঁদেরসহ মোট ১১৩ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এই মামলাটি দায়ের করে পুলিশ। এই একই মামলায় সাবেক এক প্রতিমন্ত্রী ও পাঁচজন সাবেক সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের নামও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


তবে বহু বছর আগে মৃত্যুবরণ করা দুই ব্যক্তির নাম কীভাবে এমন একটি স্পর্শকাতর মামলার এজাহারে নাশকতার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে জনমনে ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন আগে প্রয়াত ব্যক্তিদের নামে এমন ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের বিষয়টি পুলিশের মামলা তৈরি, আসামির তথ্য সংগ্রহ ও দাপ্তরিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে মারাত্মক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


এই বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, একই নামে এলাকাটিতে অন্য কোনো ব্যক্তি থাকতে পারেন, যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে। তবে তদন্তকালে যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে আসলেই কোনো মৃত ব্যক্তির নাম এজাহারে ভুলবশত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তবে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর