মোঃ বাকী অনিক , কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ৪ নং আমড়াতলি ইউনিয়নের অন্তর্গত মাঝিগাছায় জমি সংক্রান্ত বিবাদে পাল্টাপাল্টি আক্রমণে দু পক্ষের অনেকেই আহত হন। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, তানজির আলমের ভগ্নিপতি মফিজুল ইসলাম মফিজের থেকে ৫৩৩ নং সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে ভূমি ক্রয় করেন। বর্তমানে তিনি সেই জমির মূল মালিক হিসেবে বিদ্যমান আছেন। কিন্তু বিগত মালিক মফিজুল ইসলাম মফিজ গোপনে উক্ত জায়গার ফেয়ার খতিয়ান বের করেন।
তারপর তার ছেলে আশিকুল ইসলাম ফেয়ার খতিয়ান বাবদ ২ লক্ষ টাকা বর্তমান মালিক পক্ষ থেকে চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে মীমাংসার প্রচেষ্টায় আজ ৩১ /০৮/২০২৬ সকাল নয়টায় মাঝিগাছা নজির মিয়ার বাসা বাড়িতে সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশের এক পর্যায়ে দুই পক্ষের কথা কাটাকাটিতে পাল্টাপাল্টি আক্রমণে আহত হন দুপক্ষের কয়েকজন।
ভুক্তভোগীর তানজির এর তথ্যমতে, মফিজুল ইসলাম সালিশে অন্যায়ভাবে জনবল একত্র করে উপস্থিত তানজিল আলম এবং তার ভাই সালমান ইসলাম হৃদয়কে আক্রমণ করেন।এ সময় তানজিরকে ঘটনাস্থলে আশিকুল ইসলাম কার্টার দিয়ে তাকে
নৃশংসভাবে কপালে, পিঠে আঘাত করে রক্তাক্ত করেন। বাম গালে আছড়ে জখম করেন। ডান হাতে কামড় দিয়ে আঘাত করেন। তারপর হত্যার উদ্দেশ্যে আশিক তাকে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে ধরে রাখে। এ পর্যায়ে সাধারণ জনগণ ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে ভুক্তভোগী দুই ভাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে আঘাতকারী ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।পরবর্তীতে তাদেরকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তানজির আরো জানান, মফিজ- আশিক বিগত সময় থেকে উক্ত এলাকায় ভূমি সংক্রান্ত বিষয় বিবাদের সৃষ্টি করে আসছে। তাদের থেকে ক্রয় কৃত জমি মানুষকে দখল বুঝিয়ে না দিয়ে বিরম্বনা ফেলছে।ভূমির সঠিক দলিল না বুঝিয়ে দিয়ে মানুষকে সহায় সম্বলহীন করে তোলায় তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। বিক্রিত জমির দখল বুঝিয়ে না দিয়ে তার দখল ধরে রাখা তাদের স্বভাব। এমন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডে সমাজের ভুক্তভোগী মানুষ অভাব নেই।
ভূমি সংক্রান্ত তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন জঘন্য কর্মকাণ্ড সামাজিক মূল্যবোধকে তলানিতে পৌঁছে দিয়েছে।তানজিরের পরিবারের একটাই দাবি, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসন যেন সুষ্ঠু বিচার করে তাদের জমি সঠিক নিয়মে ফিরিয়ে দেন।
এ নিয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় তানজির আলম মফিজুল ইসলাম মফিজ, আশিকুল ইসলাম, আখতার হোসেন সহ আর অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে বিবাদী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
সংবাদমাধ্যম উক্ত অভিযোগের বিবাদী আশিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,তাদের সম্পর্কে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা এবং বানোয়াট। এছাড়া, তারা নিজেরাই অপরপক্ষের আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন। এমনকি উক্ত জায়গাটি তারা যতোটুকু বিক্রি করেছেন তার চেয়ে বেশি অংশ দলিলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই জায়গাটুকু তাদের নয়। এমনকি তানজীর আলমদের জমিটির আর এস খতিয়ান মালিকানা আশিকুল ইসলামের পূর্বপুরুষ নয়। মফিজুল ইসলাম মফিজ হুমায়ুন কবিরকে যে পাওয়ার দেওয়া হয়েছিল সে পাওয়ার থেকে তানজিরের ভগ্নিপতি যে জমিটি ক্রয় করেছে সেই দলিল এবং পাওয়ার নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে আরো যা বলেন, তার নিকট সকল দালিলিক প্রমাণ রয়েছে, তিনি তা সংবাদ কর্মীকে অতি শীঘ্রই প্রেরণ করবেন।
পরবর্তীতে অভিযোগের বিবাদী আশিকুল ইসলাম ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে জানান, যে জমিগুলো তার বাবার নিকট থেকে পাওয়ার নেওয়া হয়েছিল তা ভূমি জরিপে ৩৪ শতক হলেও পাওয়ার নেয়া হয়েছিল ৩৮ শতকের। দুই দাগের জমিকে এক দাগে পরিণত করে পাওয়ার গ্রহীতা হুমায়ুন কবির বিক্রয় করে যেটার কোন আইনগত কোন বৈধতা নেই।এমনকি এসব দলিলের খতিয়ান এখনো বৈধভাবে প্রকাশিত হয়নি।
তাছাড়া যে জমি নিয়ে বিবাদ সে জমিটি যদি তার বাবার থেকে ক্রয় করা হয় তাহলে যেন সঠিকভাবে সংশোধনের মাধ্যমে নতুন দলিলের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়। তিনি এবং তার পরিবারবর্গ চান সঠিকভাবে সামাজিক মীমাংসার মাধ্যমে যতটুকু জমি বিদ্যমান রয়েছে সে জমির দলিল নেয়া হোক। এই প্রচেষ্টায় সামাজিক মীমাংসার জন্য গতকাল সোমবার সকালে নজির মিয়ার বাসায় নজির মিয়া, ফজলুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি একত্রিত হয়ে সালিশি বৈঠক শুরু করেন।
কিন্তু বৈঠকের এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটির মাধ্যমে তানজির,তার ভাই এবং বাবা ক্ষিপ্ত হয়ে আশিকুল ইসলামের বাবা মফীজুল ইসলাম মফিজকে আঘাত করেন। তার মাথা ফেটে যায়। আশিকুল ইসলামের হাতের আঙ্গুল ভেঙে যায়।পরবর্তীতে তারা মেডিকেল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাসায় অবস্থান করছেন।সংবাদ কর্মীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রমাণস্বরূপ তারা প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় তিনিও কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
বর্তমানে আশিকুল ইসলামের একটাই দাবি যেন, প্রশাসন পাশে থেকে এ ঘটনার সুস্ঠ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক ভাবে নতুন দলিল প্রণয়নের মাধ্যমে ভূমি দখল বুঝিয়ে দিয়ে তার পরিবারকে এ বিষয় থেকে মুক্ত করা হয়।