ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আল জাজিরা-র প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমটির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই মর্মান্তিক হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক শহরের একটি আবাসিক ভবনে বুধবার (দুই সেপ্টেম্বর) ভোরে এই হামলা চালানো হয়। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। এছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি-ও এই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর প্রচার করেছে।
সিরিক কাউন্টির গভর্নর রেজা শহিদিয়ান দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে জানিয়েছেন, বিয়ের অনুষ্ঠান লক্ষ্য করে চালানো এই বিমান হামলায় আরও অন্তত ৬৩ জন আহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, আহতদের মধ্যে ৫০ জনই নিরীহ নারী ও শিশু। তাদের সবাইকে দ্রুত উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী মিনাব শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি প্রত্যক্ষদর্শী ও অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া এক শিশুর বিবরণ প্রকাশ করেছে। শিশুটির ভাষ্যমতে, তারা আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরেই বিকট শব্দে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং চারপাশের ধ্বংসাবশেষের তীব্র আঘাতে ঘটনাস্থলেই বহু মানুষ রক্তাক্ত ও আহত হন।
এদিকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তারা ইরানি সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থাপনা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আধুনিক রাডার, সামুদ্রিক সামরিক সম্পদ, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত যোগাযোগকেন্দ্রে নতুন করে ব্যাপক সামরিক হামলা পরিচালনা করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং মার্কিন সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অব্যাহত হামলার চেষ্টার জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
(সূত্র: আল জাজিরা).