ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

আসিফসহতার অপকর্মের ‘নেপথ্যের নায়কদের’ তথ্য চেয়ে ক্রীড়ামন্ত্রণালয়ে চিঠি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:১৭ পিএম

অন্তর্বর্তীকালীনসরকারের যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীবভূঁইয়াসহ তার অপকর্মের ‘নেপথ্যেরনায়ক’ ও সহযোগীদের বিরুদ্ধেওঠা অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতিদমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুদকের বিশেষ তদন্ত বিভাগের মহাপরিচালকের নির্দেশনার পর বৃহস্পতিবার (৩সেপ্টেম্বর) যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর এইতথ্য চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিদেওয়া হয়। দুদকেরওই সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, আসিফ মাহমুদ সজীবভূঁইয়াসহ তার অপকর্মের নেপথ্যেরনায়ক যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমের বিরুদ্ধেদুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগউঠেছে।


 একইসঙ্গে যুগ্মসচিব ড. শেখ মোহাম্মদজোবায়েদ হোসেন ও যুব-১শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদকে ‘সেফ গার্ড’ দিয়ে বহাল তবিয়তেরাখার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসবঅভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানেরস্বার্থে দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামেরনেতৃত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট একটিঅনুসন্ধান দল গঠন করাহয়েছে। তদন্তেরদায়িত্বে জাহিদ কালামের সঙ্গে রয়েছেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও উপসহকারীপরিচালক রোমান উদ্দিন।


অনুসন্ধানেরঅংশ হিসেবে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের দায়িত্বপালনকালে হওয়া বিভিন্ন নিয়োগ,পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত নথিপত্রএবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ফাইল চেয়ে যুবও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেএসব তথ্য ও রেকর্ডপত্রদুদকে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।


অনুসন্ধানেরস্বার্থে দুদক বেশ কিছুগুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তলব করেছে। এরমধ্যে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীবভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রণালয়ের অধীন যেসব কর্মকর্তাও কর্মচারীকে নিয়োগ, পদোন্নতি এবং বদলি করাহয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্যও অন্যান্য রেকর্ডপত্র।


এছাড়াওজনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ৭মে এবং ২০২৬ সালের১৮ এপ্রিলের দুটি স্মারক মূলেবদলিসংক্রান্ত নথির সত্যায়িত ছায়ালিপিচাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি স্মারকের অধীনে ৩৮ জন উপজেলাযুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান,বাতিল ও পদায়নসংক্রান্ত নথিরসত্যায়িত ছায়ালিপিও তলব করেছে কমিশন।


একইচিঠিতে মাঠপর্যায়ের বেশ কয়েকজন সহকারীউপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তারব্যক্তিগত নথির সত্যায়িত ছায়ালিপিওচাওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেনঢাকার গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ ও আমির; বগুড়ারআনিচ, জাহিদ ও ইব্রাহীম; বরিশালেরজুলহাস; পাবনার নকিমউদ্দিন, আলী হোসেন ওআবু সাঈদ; ধামরাইয়ের কোরবান আলী এবং নরসিংদীরআলী হোসেন।


এসবকর্মকর্তার ব্যক্তিগত ফাইলের পাশাপাশি উল্লিখিত সকল বিষয়ের সংশ্লিষ্টবিধিবিধান ও সহায়ক রেকর্ডপত্রওদুদকের অনুসন্ধান দলের কাছে জমাদেওয়ার জন্য চিঠিতে অনুরোধকরা হয়েছে।


অভিযোগরয়েছে, পছন্দের জায়গায় পদায়ন ও পদোন্নতি পাইয়েদেওয়ার নামে কর্মকর্তাদের কাছথেকে অর্থ আদায় করাহয়েছে। একই সঙ্গে যুবউন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডার ও কেনাকাটায় একটিসিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। আসিফ মাহমুদ ছাড়াওযুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়েরতৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদহোসেন ও উপসচিব মো.মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।


 বিষয়টিনিশ্চিত করে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পদোন্নতি, বদলি বাণিজ্য, পদায়নসহবিভিন্ন অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীবভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।’


৩৮ কর্মকর্তার পদায়নে ৭৬ লাখ টাকালেনদেনের অভিযোগ দুদকের টেবিলে জমা পড়া অভিযোগেবলা হয়েছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের৩৮ জন উপজেলা যুবউন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলকরে নতুন করে পদায়নেরআদেশের মাধ্যমে ৭৬ লাখ টাকাহাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগঅনুযায়ী প্রতি কর্মকর্তার কাছ থেকে গড়েপ্রায় দুই লাখ টাকাকরে নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি১৫০ জন সহকারী উপজেলাযুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগরয়েছে। দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, তাদেরপদোন্নতির জন্য মোট এককোটি ৫০ লাখ টাকাএবং পদোন্নতির পর পছন্দের জায়গায়পদায়নের জন্য আরও দুইকোটি টাকা ঘুষ লেনদেনহয়েছে। সব মিলিয়ে শুধুএসব নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন-সংক্রান্তঅভিযোগের অঙ্ক দাঁড়ায় চারকোটি ২৬ লাখ টাকা।


কেনাকাটা-টেন্ডারেও সিন্ডিকেটের অভিযোগ শুধু কর্মকর্তাদের নিয়োগ,বদলি বা পদোন্নতি নয়,যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন কেনাকাটা ও টেন্ডার নিয়েওঅভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, যুবউন্নয়ন অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে একটি ‘সিন্ডিকেট’গড়ে তোলা হয়েছিল। ওইচক্রের মাধ্যমে অধিদপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডার, কেনাকাটা এবং অন্যান্য কার্যক্রমেঅনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। 


অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরেরকয়েকজন কর্মকর্তার নামও এসেছে। এছাড়া যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটারঅভিযোগের বাইরে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধেঘুষ গ্রহণ, বিদেশে অর্থ পাচার, অবৈধবিট কয়েন লেনদেন, চাঁদাবাজি,স্বজনপ্রীতি এবং আঞ্চলিক প্রভাববিস্তারের অভিযোগও রয়েছে।


এছাড়া ক্রীড়া উপদেষ্টা থাকাকালে ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ সুবিধানেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধানের পরিধিতে আসতে পারে বলেজানা গেছে। এসব অভিযোগে তারসাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করাহয়েছে।   


এ সম্পর্কিত আরো খবর