ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

টিকা রপ্তানিতে ১৫ বাধা: ৬ মাসের মধ্যে এমএল-৩ অর্জনের কড়া নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১২:৫৪ পিএম

বাংলাদেশ থেকে উৎপাদিত টিকা বিশ্ববাজারে বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার আন্তর্জাতিক সক্ষমতার ঘাটতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) 'ম্যাচিউরিটি লেভেল-' (এমএল-) অর্জনে বর্তমানে ১৫টি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই সক্ষমতার ঘাটতি দূর করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ত্বরান্বিত করতে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এমএল- অর্জনের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শেষে আন্তর্জাতিক টিকার বাজারে প্রবেশে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণের কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

গত ২০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি এবং ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দারকে প্রধান করে এই বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।

 

ডব্লিউএইচওর গ্লোবাল বেঞ্চমার্কিং মানদণ্ড বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এমএল- লেভেল অর্জনের জন্য দেশের জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ওষুধ টিকার নিবন্ধন, বাজারজাতকরণের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রদান নিয়মিত পরিদর্শন, মান নিয়ন্ত্রণ, ল্যাবরেটরি সক্ষমতা, টিকার নির্দিষ্ট ব্যাচ ছাড়পত্র প্রদান, আন্তর্জাতিক মানের বাজার-পরবর্তী নজরদারি এবং সুনির্দিষ্ট ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনায় পূর্ণ সক্ষমতা থাকতে হয়। ছাড়া প্রয়োজন দক্ষ জনবল, মানসম্মত নথি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর, আধুনিক তথ্য ব্যবস্থাপনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পূর্ণ স্বাধীনতা স্বচ্ছতা, জরুরি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই অর্থায়ন ব্যবস্থা।

 

বাংলাদেশে ২০১১ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে টিকা উৎপাদন শুরু হলেও এই সূচকগুলোতে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। দেশে বর্তমানে ইনসেপটা, পপুলার হেলথকেয়ার নামক তিনটি শীর্ষ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান মানবদেহে পশুচিকিৎসায় ব্যবহৃত ১৫ থেকে ১৬ ধরনের টিকা উৎপাদন করছে। এর মধ্যে ইনসেপটা সীমিত আকারে আফ্রিকার কয়েকটি দেশে টিকা রপ্তানি করলেও ডব্লিউএইচওর আন্তর্জাতিক এমএল- সনদ না থাকায় বৈশ্বিক বড় বাজারের আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশ নিতে পারছে না।

 

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ডব্লিউএইচওর ম্যাচিউরিটি লেভেল- পর্যায়ে রয়েছে। এমএল- অর্জনে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের পর বৈশ্বিক মূল্যায়নের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৬ সাল থেকেই এই লেভেল অর্জনে কাজ চলছে। তবে 'ঔষধ কসমেটিকস আইন-২০২৩' কার্যকর ডিজিডিএর প্রবিধানমালা প্রণয়ন বিলম্বিত হওয়ায় এই রূপান্তর সময়সাপেক্ষ হয়েছে। বর্তমানে ঢাকায় অবস্থানরত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কারিগরি প্রতিনিধিরা নিয়মিত পরামর্শ সহায়তা প্রদান করছেন।

 

ডব্লিউএইচওর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রায় ১২ কোটি মার্কিন ডলারের টিকা আমদানি করেছে, যা ২০৩০ সাল নাগাদ ৪০ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। দেশের ভেতর উৎপাদিত প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধের স্থানীয় চাহিদা পূরণ এবং ১৫০টি দেশে স্থানীয় ওষুধ রপ্তানি হলেও ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারে এমএল- অর্জন জরুরি। ছাড়া সরকারের উদ্যোগে মুন্সীগঞ্জে সরকারি টিকা উৎপাদন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, যা কার্যকর হলে দেশে ওষুধ ভ্যাকসিন বিপ্লব নতুন মাত্রা পাবে।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর