ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার

রাশিয়ার কূটনৈতিক পরিভাষায় কেন আর 'গ্রেট' নয় গ্রেট ব্রিটেন


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১:২৩ পিএম

বিশ্ব রাজনীতিতে কয়েক দশক আগেওগ্রেট ব্রিটেনসম্পর্কে একটি অতিপরিচিত প্রবাদ প্রচলিত ছিল—‘ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে সূর্য কখনো অস্ত যায় না।তবে সময় ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রুশ পররাষ্ট্রনীতিতেও এসেছে দৃশ্যমান রূপান্তর। সম্প্রতি রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেগ্রেট ব্রিটেনবাইউনাইটেড কিংডম’ (যুক্তরাজ্য) নামটি এড়িয়ে গিয়ে কেবলব্রিটেনশব্দটি ব্যবহার করছে। এই ভাষাগত পরিবর্তন কেবল কূটনৈতিক পরিভাষার রদবদল নয়, বরং ক্রেমলিনের চোখে যুক্তরাজ্যের বর্তমান বৈশ্বিক অবস্থান নিম্নমুখী ভাবমূর্তির এক স্পষ্ট বার্তা।

 

রাশিয়ার কূটনৈতিক কার্যক্রমের বার্ষিক ফলাফল পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেন দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রুশ কূটনীতির মূল নিয়ন্ত্রক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। তিনি জানান, কাউকে অসম্মান করা তাঁদের লক্ষ্য নয়। তবে কোনো দেশ নিজেই নিজের নামের আগেমহানবাগ্রেটবিশেষণ যুক্ত করেছেএমন একমাত্র উদাহরণ হলো গ্রেট ব্রিটেন। প্রসঙ্গে তিনি কিছুটা শ্লেষের সুরেই উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের ইতিহাসে অন্য উদাহরণটি ছিলগ্রেট লিবিয়ান জামাহিরিয়া’, যে দেশটির অস্তিত্ব আজ আর নেই।

 

যদিও ঐতিহাসিকভাবেগ্রেটশব্দটি ভৌগোলিক কারণে ব্যবহৃত হতোফ্রান্সেরব্রিটানিঅঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা বোঝাতে এটি ব্যবহার করা শুরু হয়। তবে বর্তমান রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই আচরণ থেকে স্পষ্ট যে, তারা লন্ডনের প্রতি তাদের মনোভাবের এক মৌলিক পরিবর্তন প্রদর্শন করছে।

 

ইতিমধ্যে মস্কো লন্ডনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে মারাত্মক ধস নেমেছে। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মস্কো নতুন কোনো রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয়নি। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এটি রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের সমান এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের মর্যাদাচার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সপর্যায়ে নামিয়ে আনারই লক্ষণ। যা উভয় পারমাণবিক শক্তিধর দেশের সম্পর্ককে ইতিহাস সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। রাশিয়া যুক্তরাজ্যের মধ্যকার কূটনৈতিক সংলাপ এখন প্রায় ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে।

 

ইতিহাসের পাতায় রুশ সাম্রাজ্যের সময় থেকেই ব্রিটেন ছিল মস্কোর প্রধান ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। ১৮৫৩-১৮৫৫ সালের ক্রিমিয়ার যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে জোট গঠন কিংবা মধ্য এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়েদ্য গ্রেট গেম’-এর সূচনাপ্রতিটি পদক্ষেপে লন্ডন ছিল মূল অনুঘটক। পরবর্তীতে সোভিয়েত আমলে উইনস্টন চার্চিলের ঐতিহাসিকফুলটন ভাষণশীতল যুদ্ধের সূচনা করেছিল, যা যৌথ সম্পর্কের টানাপোড়েনকে বহুদূর নিয়ে যায়।

 

বর্তমানে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধেও কিয়েভকে সামরিক কৌশলগত সহায়তা প্রদানে যুক্তরাজ্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। কিয়েভের সঙ্গে খনিজ সম্পদ চুক্তি স্বাক্ষর থেকে শুরু করে মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর সমন্বয় সাধনে লন্ডন নেতৃত্ব দিচ্ছে। এই সার্বিক ভূরাজনৈতিক বৈরিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতির কারণেই রাশিয়ার কাছে তথাকথিতগ্রেট ব্রিটেনআজ আরগ্রেটহিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না।

(তথ্যসূত্র: আরটি)

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর