ঢাকার
সাভারের আশুলিয়ায় একটি বন্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ গিয়ে
শিশুসন্তানসহ একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ
উদ্ধার করেছে। আজ শনিবার দিবাগত
রাতে সাভারের আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হযরত আলীর মালিকানাধীন এক ভাড়া বাড়ি
থেকে পচাগলে যাওয়া এই ৩টি মরদেহ
উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতরা পরস্পর স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের ছোট
সন্তান।
আশুলিয়া
থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল হোসেন জানান, মধ্য জামগড়া এলাকার ওই ভাড়া ঘরটি
থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। পচা দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আশুলিয়া থানায় খবর দেন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং কক্ষের ভেতর থেকে রহস্যজনকভাবে পড়ে থাকা ৩ জনের গলিত
মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকাজের সময় দেখা যায়, মৃত পুরুষের গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল।
স্থানীয়
সূত্র ও প্রতিবেশীরা জানান,
স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে নতুন ভাড়াটিয়া হিসেবে তাঁরা অল্প কিছুদিন আগে এই বাড়িটিতে উঠেছিল।
ভাড়া নেওয়ার পর থেকেই ওই
কক্ষের দরজা ও জানালা বেশির
ভাগ সময় বন্ধ রাখা হতো। যার কারণে প্রতিবেশীদের সাথে তাঁদের তেমন কোনো যাতায়াত বা পরিচয় গড়ে
ওঠেনি। শুক্রবার রাতের দিকে কক্ষটি থেকে হঠাৎ তীব্র ও অসহ্য পচা
দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। এতে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ জাগলে তাঁরা বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে আশুলিয়া থানা পুলিশকে জানান। পুলিশ এসে বন্ধ ঘরটি খুলে বিছানার ওপর তাঁদের লাশ পড়ে থাকতে দেখে।
ঘটনার
খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঢাকা জেলা উত্তরের গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ সাইদুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর নিহতদের লাশ
উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকৃত সবকটি মরদেহ বিছানার ওপরেই ছিল এবং পুরুষ ব্যক্তির গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
তিনি
আরও জানান, মরদেহের আলামত ও সার্বিক পারিপার্শ্বিক
পরিস্থিতি দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা পরিকল্পনা করে তাঁদের নির্মমভাবে হত্যা করে থাকতে পারে। তবে নিহতদের সঠিক পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানা
এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি কি নিছক একটি
হত্যাকাণ্ড, নাকি এর পেছনে অন্য
কোনো পারিবারিক ও সামাজিক রহস্য
রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে
পুলিশের একাধিক বিশেষ দল জোর তদন্ত
শুরু করেছে। নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি কীভাবে এবং কত দিন আগে
তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা উদ্ঘাটনে কাজ
করছে পুলিশ।