ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

মার্কিন হামলায় ওমান উপসাগরে ডুবে গেল ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:৩৮ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ইরানের একটি বিশালাকৃতির তেলবাহী ট্যাংকার এম/টি কায়লো শেষ পর্যন্ত ডুবে গেছে। গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কায়লোসহ তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে সরাসরি হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের যুদ্ধজাহাজে হামলা চালায়। আর সেই হামলার প্রতিক্রিয়া ও জবাব হিসেবেই ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে তারা সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে এই আক্রমণ চালায়।

 

পরবর্তীতে ওমান উপসাগরে ইরানের এই বিশালাকৃতির ট্যাংকারটি ডুবে যাওয়ার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সমন্বয়ক ইউনিট সেন্টকম। আজ রোববার সকালে প্রকাশিত সেই ভিডিওতে পরিষ্কারভাবে দেখা যায়, মার্কিন বাহিনীর হামলায় মারাত্মকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তেলবাহী বিশাল ট্যাংকারটি ধীরে ধীরে সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম উল্লেখ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্যদের পেশাদারত্ব ও সুনির্দিষ্ট আক্রমণের ফলে ইরানের এম/টি কায়লো ট্যাংকারটি ওমান উপসাগরের তলদেশে তলিয়ে গেছে। একইসঙ্গে তারা ব্যঙ্গাত্মকভাবে মন্তব্য করে যে, নতুন করে ডুবে যাওয়া এই ট্যাংকারটি সমুদ্রের তলদেশে আগে থেকেই থাকা ইরানের নৌবাহিনীর অবশিষ্ট জাহাজের তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল। সেই ঘটনার পর টানা ৪০ দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাত চলে। ওই অভিযানের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ থেকে প্রতিনিয়ত দাবি করা হচ্ছিল যে, তারা ইরানের সমুদ্রে থাকা নৌবাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে এবং তাদের অধিকাংশ সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। সেন্টকমের সাম্প্রতিক এই মন্তব্যের মাধ্যমে মূলত তাদের সেই পূর্ববর্তী দাবিটিকেই নতুন করে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী হামলার জবাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইরানও। দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন আক্রমণের জবাব দিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিধি অমান্য করা এবং অনুমতিবিহীন রুটে চলাচলের অভিযোগে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আরও তিনটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে তারা হামলা ও অবরোধ সৃষ্টি করেছে।

 

গতকাল ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন সেনারা আক্রমণ চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ইরানি বিপ্লবী গার্ড তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানার চেষ্টা করেছিল এবং সেই জের ধরেই এই ট্যাংকারগুলোকে তারা নিশানা বানায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে নতুন করে চালানো এই পাল্টা হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

(সূত্র: আল জাজিরা)


এ সম্পর্কিত আরো খবর