ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

কঙ্গোতে বিয়ের অনুষ্ঠানে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২২


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:৪৪ পিএম

অনলাইন ডেস্ক

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় বিয়ের অনুষ্ঠানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লিংগওয়ালা কমিউনের একটি ভবনে বিয়ের সংবর্ধনা চলাকালে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে অনুষ্ঠানস্থলে থাকা অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।


লিংগওয়ালা মেয়র নরবার্ট মুশিঙ্গা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক হিসাবে অগ্নিকাণ্ডে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে আহতদের মধ্যে কারও অবস্থা গুরুতর হলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


ঘটনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নরবার্ট মুশিঙ্গা। তিনি জানান, আগুন লাগার পর অনুষ্ঠানস্থলে থাকা মানুষজন দ্রুত নিরাপদে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভবনের জরুরি নির্গমনপথে পৌঁছাতে তাদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। ফলে আতঙ্কিত মানুষের মধ্যে এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।


মেয়র বলেন, আগুন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে থাকা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সবাই একসঙ্গে ভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে জরুরি বহির্গমনপথ ব্যবহার করতে না পারায় অনেকেই বিপদের মধ্যে পড়েন।


অগ্নিকাণ্ডে ভবনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন সম্পদও পুড়ে গেছে। আগুনে ভবনের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সেখানে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী ধ্বংস হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধারকাজ চালিয়ে আহত ব্যক্তিদের কিনশাসার বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।


এ ঘটনায় কিনশাসায় জনসমাগম হয় এমন ভবন ও অনুষ্ঠানস্থলের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বের হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ও সহজে ব্যবহারযোগ্য নির্গমনপথ থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আবারও সামনে এসেছে।


অগ্নিকাণ্ডের সময় জরুরি বহির্গমনপথে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা মানুষের জীবনকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ভবনের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব বাড়ছে।


এদিকে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাকমেইন শাবানি দেশটির সব প্রাদেশিক গভর্নরকে জনসমাগম হয় এমন অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে তাৎক্ষণিক পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। এসব স্থাপনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ রয়েছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


জ্যাকমেইন শাবানি আরও নির্দেশ দিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত নিরাপত্তা মান পূরণ করতে ব্যর্থ হবে, সেগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। তার এই নির্দেশনার লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে জনসমাগমস্থলে অগ্নিকাণ্ডসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা।


বিয়ের মতো আনন্দঘন একটি অনুষ্ঠানে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ২২ জনের প্রাণহানির ঘটনায় স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।


কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ হলে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ, ভবনের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং জরুরি নির্গমনপথ ব্যবহারে ঠিক কী ধরনের সমস্যা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর