ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

চালু হচ্ছে আইসিইউ ও সিসিইউ

৬ বছরেও চালু হয়নি, চার কোটি টাকার বার্ন ইউনিট এবার বন্ধের পথে


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:৫১ এএম

বগুড়ার ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যার বার্ন ইউনিটটি দীর্ঘ ছয় বছরেও চালু হতে পারেনি। প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক চিকিৎসার যন্ত্রপাতির তীব্র অভাবে দীর্ঘ দিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকা এই ইউনিটটি অবশেষে চিরতরে বিলুপ্ত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বার্ন ইউনিটটি চালু না করে ভবনটিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও সিসিইউ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

 

বগুড়া ও পার্শ্ববর্তী উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসার চাহিদা থাকলেও কোনো বিশেষায়িত ব্যবস্থা নেই। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বগুড়ার দুটি প্রধান সরকারি হাসপাতালে গত তিন বছরে আগুনে পোড়া অন্তত ৩৮৯ জন রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু কোনো পৃথক বার্ন ইউনিট না থাকায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে সাধারণ সার্জারি বিভাগেই ঝুঁকি নিয়ে এসব পোড়া রোগীর চিকিৎসা দিতে হয়। এদের মধ্যে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় অন্তত ৩৮ জন আশঙ্কাজনক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

 

বগুড়া অঞ্চলের আগুনে পোড়া রোগীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে ২০১৫ সালে মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ১০ শয্যার একটি স্বতন্ত্র বার্ন ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে গণপূর্ত বিভাগ দরপত্র আহ্বান করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০১৮ সালে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং প্রায় তিন কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালের অক্টোবরে ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়।

 

নির্মাণকাজ শেষে গণপূর্ত বিভাগ ১০টি অত্যাধুনিক শয্যা সংবলিত ভবনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু ভবন হস্তান্তর করা হলেও প্রয়োজনীয় ডাক্তার, নার্স ও অবকাঠামোগত যন্ত্রপাতি না থাকায় এটি একদিনের জন্যও চালু করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বারবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দের আকুল আবেদন জানালেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, ১০ শয্যার এই বার্ন ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনা করতে একজন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, দুজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, দুজন সহকারী রেজিস্ট্রার, চারজন ইনডোর চিকিৎসা কর্মকর্তা, চারজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, দুজন অবেদনবিদ, ১৬ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স, ১২ জন অফিস সহায়ক, ১২ জন ওয়ার্ডবয় এবং আটজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রয়োজন। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এসব পদের মঞ্জুরি পাওয়া যায়নি এবং কোনো জনবলও পদায়ন করা হয়নি।

 

অথচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনটিতে ১০টি অত্যাধুনিক শয্যাসহ দুটি বিশেষায়িত ওয়ার্ড, একটি সুসজ্জিত অস্ত্রোপচার কক্ষ, রোগীদের পর্যবেক্ষণ ইউনিট, চিকিৎসকদের বিশ্রামকক্ষ ও ডিউটি চেম্বারসহ সব ধরনের আধুনিক সুবিধা বিদ্যমান ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না করে ফেলে রাখায় এসব মূল্যবান অবকাঠামো ও শয্যার কার্যকারিতা নষ্ট হতে বসেছে।

 

বার্ন ইউনিটটি দ্রুত চালুর সুবিধার্থে সর্বশেষ গত ২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবারও জনবল চেয়ে তাগাদাপত্র পাঠায় মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর ১৯ আগস্ট স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বগুড়ায় গিয়ে হাসপাতাল ও সেখানকার চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিদর্শনের অংশ হিসেবে এই বার্ন ইউনিটটি সরাসরি ঘুরে দেখেন।

 

পরিদর্শন শেষে ঢাকায় ফিরে স্বাস্থ্য সচিব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান, কোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যতীত ২৫০ শয্যার বিশেষায়িত বা জেনারেল হাসপাতালে স্বতন্ত্র বার্ন ইউনিট পরিচালনা করা নীতিগতভাবে সম্ভব নয়। তিনি পরামর্শ দেন যে, পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে না রেখে বিদ্যমান অবকাঠামোটি আইসিইউ ও সিসিইউ হিসেবে রূপান্তর করে ব্যবহার করা যেতে পারে। স্বাস্থ্য সচিবের ওই নির্দেশনার পরই বার্ন ইউনিটটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করে সেখানে আইসিইউ ও সিসিইউ প্রতিষ্ঠার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

এ বিষয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মজিদুল ইসলাম জানান, ভবনটি গণপূর্ত বিভাগ থেকে বুঝে নেওয়ার পর থেকেই চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে বহুবার চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো চিকিৎসক বা নার্সের পদ সৃষ্টি করা হয়নি এবং যন্ত্রপাতিও পাওয়া যায়নি।

 

ডা. মজিদুল আরও জানান, সর্বশেষ চিঠিতেও তারা ইউনিটটি চালু করার আকুল আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাস্থ্য সচিব সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে এটিকে বার্ন ইউনিট হিসেবে চালু না করে আইসিইউ ও সিসিইউ তে রূপান্তরের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন। ফলে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 

বগুড়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে সুচিকিৎসার অভাবে অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন অথবা পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। এই পরিস্থিতিতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত বিশেষায়িত অবকাঠামো চালু না করে অন্য খাতে রূপান্তর করার এই উদ্যোগ স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে সচেতন মহলে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র-সমকাল 


এ সম্পর্কিত আরো খবর