ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

কেপ ভার্দেতে বাস খাদে পড়ে ২৫ শিশু-কিশোর নিহত


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১১:৩৬ এএম

পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দেতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই শিশু ও কিশোর-কিশোরী। যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছে, যাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহতদের প্রায় সকলেই স্কুলের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।


স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে কেপ ভার্দের ফোগো দ্বীপে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দেশটির স্থানীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান জোসে কানুতো সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, একটি আঁকাবাঁকা ও দুর্গম পার্বত্য সড়ক ধরে যাওয়ার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং সোজা গভীর গিরিখাতে পড়ে যায়।


সাধারণত পশ্চিম আফ্রিকার এই দ্বীপরাষ্ট্রটিতে এ ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা অত্যন্ত বিরল। কেপ ভার্দের অধিকাংশ সড়ক অত্যন্ত সুনির্মিত ও উন্নতমানের এবং চলাচলকারী যানবাহনগুলোও সাধারণত ত্রুটিমুক্ত থাকে। ফলে হঠাৎ করে এমন একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ায় পুরো অঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


জোসে কানুতো আরও জানান, দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি মূলত একটি স্কুলের শিক্ষা সফরের বাস ছিল। ঘটনার সময় বাসটিতে মোট ৩২ জন যাত্রী অবস্থান করছিলেন। জানা গেছে, কেপ ভার্দের বিখ্যাত 'পিকো দো ফোগো' আগ্নেয়গিরির মৃত জ্বালামুখের কাছে অবস্থিত 'চা দাস কালদেইরাস' গ্রামে শিক্ষা সফর শেষে শিক্ষার্থীরা ফিরছিল। তাদের গন্তব্য ছিল 'সাও ফিলিপ' শহর। কিন্তু ফেরার পথে অপ্রত্যাশিতভাবে বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে গিয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হয় এবং গভীর পাহাড়ি উপত্যকায় পড়ে যায়।


এই মহতী শিক্ষাসফরের মূল আয়োজক ছিলেন বাসটির চালক নিজেই। তিনি অত্যন্ত সুহৃদ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রতি বছর নিয়ম করে তিনি উপহার হিসেবে নিজ খরচে স্থানীয় কিছু স্কুল শিক্ষার্থীকে দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে শিক্ষাসফরে নিয়ে যেতেন। চলতি বছরও তিনি শিশুদের আনন্দে রাখার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় চালক নিজেও প্রাণ হারিয়েছেন।


দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল ও জরুরি সেবা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নিখোঁজ ও আটকে পড়াদের উদ্ধারে রাতভর অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাসটি একটি অতল ও দুর্গম পাথুরে উপত্যকায় এসে থেমেছিল, যার ফলে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া আহত ও নিহত ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করতে উদ্ধারকর্মীদের প্রচণ্ড বেগ পেতে হয়।


উদ্ধার তৎপরতা শেষে রোববার ভোরে নিহতদের মধ্যে সাতজনকে স্থানীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করা হয়েছে। জাতীয় বেতার মাধ্যম আরসিভি-র তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এ ঘটনায় নিহত বাকিদের মরদেহ শনাক্তকরণের পর দিনের পরবর্তী সময়ে কবর দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন আহত কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

(সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি)


এ সম্পর্কিত আরো খবর