ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

আগামী দিনে গুণগত ইন্টারনেট সেবায় জোর দিচ্ছে সরকার: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১১:৪৬ এএম

অনলাইন রিপোর্টার

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে পরবর্তী মূল চ্যালেঞ্জ শুধু সংযোগের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং গ্রাহকদের জন্য উচ্চ সেবার মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা এবং অর্থবহ সংযোগ সুনিশ্চিত করা বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি জানান, ডিজিটাল নেটওয়ার্কের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের সকল নাগরিকের জন্য নতুন সুযোগের উন্মোচন, জাতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং দেশের ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের কাছে প্রযুক্তির সুফল পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার।

আজ সোমবার রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে আয়োজিত ‘৩৭তম এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপ (এডব্লিউজি-৩৭)’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা তুলে ধরেন।

 

সম্মেলনে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি গতিশীল ও বিশাল টেলিযোগাযোগ বাজার গড়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের জুলাই মাসের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৯ কোটি ১০ লাখ মোবাইল সংযোগ এবং প্রায় ১০ কোটি ইন্টারনেট সংযোগ সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ১০ কোটি ৮০ লাখের বেশি গ্রাহক ফোর-জি প্রযুক্তির সেবা গ্রহণ করছেন। তাছাড়া পুরো দেশে অবকাঠামোগত ভিত্তি হিসেবে প্রায় ৪৯ হাজার ফোর-জি সাইট, ৪৬ হাজার নেটওয়ার্ক টাওয়ার এবং প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার লম্বা অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, এই বৃহৎ পরিসংখ্যান যেমন দেশের অবকাঠামোগত সফলতা নির্দেশ করে, তেমনই সরকারের বর্তমান অগ্রাধিকার প্রকাশ করে। সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল সংখ্যাভিত্তিক বিস্তার নয়; বরং ইন্টারনেটের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মূল্য নির্ধারণ করা এবং নিরবচ্ছিন্ন অর্থবহ সংযোগ তৈরি করা। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও তথ্য-প্রযুক্তি এবং টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

 

ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে জানিয়ে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং উদীয়মান প্রযুক্তি শিল্পে দেশের দক্ষতা দ্রুত বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশকে একটি শক্ত অবস্থান গড়ে দিতে বেতার তরঙ্গের (স্পেকট্রাম) সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ক্রমবর্ধমান ডেটার চাহিদা মেটাতে ফাইভ-জি, কৃত্রিম উপগ্রহ যোগাযোগ, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এবং নতুন প্রজন্মের ওয়্যারলেস প্রযুক্তির বিকাশে দূরদর্শী ও মানসম্মত সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। ঢাকায় আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের আয়োজন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে বাংলাদেশের সমন্বয় ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

 

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি বিশ্বে নীতি ও কৌশলকে যুগোপযোগী রাখা প্রয়োজন। নতুন উদ্ভাবনের শতভাগ সুফল ভোগ করতে সমন্বিত নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও উন্নত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আবশ্যক। এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বেতার প্রযুক্তি ও জ্ঞান হস্তান্তরে একটি নির্ভরযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। আয়োজনে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান, কমিশনারবৃন্দ, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর