ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

রোহিঙ্গা সংকটে দেশের অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ: প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • আপলোড সময় : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৪:৫৭ পিএম

বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ, তার ওপর দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলনবিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া। সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।


বৈঠকের শুরুতে বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। সাসাকাওয়া বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক বৈষম্য নিরসনে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে নিজের বিশেষ ভূমিকার কথা তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।


রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের সার্বিক অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে জাপানের বিশেষ দূত জানান, এই সংকটময় পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত অবগত রয়েছেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের আন্তর্জাতিক সহায়তায় জাপান সরকারের ধারাবাহিক অনুদান ও বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমের চিত্রও তিনি সরকারের সামনে উপস্থাপন করেন।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ দূত সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বব্যাপী মানবিক কর্মকাণ্ডের উচ্চ প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ও জটিল জাতীয় সংকট। এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য তিনি জাপান সরকারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।


তারেক রহমান আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের তাঁদের নিজেদের জন্মভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও পূর্ণ মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজের আন্তর্জাতিক অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সফল হওয়ার পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।


বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া জানান, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তাঁর সঙ্গে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং মিয়ানমার সরকার এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তরিক। তবে রাখাইন রাজ্যের চলমান অভ্যন্তরীণ ও জটিল সামরিক পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসনের গতিতে কিছুটা সময় লাগছে বলে তিনি জানান।


প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পথ উন্মুক্ত হবে। বিশেষ দূত আশ্বস্ত করেন, সংকট সমাধানে তিনি তাঁর জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এ ছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপন ও জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও গঠনমূলক আলোচনা হয়।


বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর