আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একযোগে সমন্বিত ও বহুমাত্রিক সামরিক হামলা চালানোর ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে ইরান। এই লক্ষ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস, ইয়ামেনের হুথি এবং ইরাকের ইরানপন্থী শক্তিশালী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে সঙ্গে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাতে সম্প্রতি প্রকাশিত জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ৭ অক্টোবরের হামলায় প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর সমন্বয়ে যে ধরণের ঘাটতি ছিল, তা দূর করতেই মূলত এবার এই নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে তেহরান। সেই সময়ে হামাস এককভাবে আক্রমণ শুরু করায় ইরান কিংবা হিজবুল্লাহ একই সঙ্গে অন্যান্য সামরিক ফ্রন্টগুলো সক্রিয় বা উন্মুক্ত করতে পারেনি। পরবর্তীতে বিভিন্ন ফ্রন্টে পৃথকভাবে লড়তে গিয়ে আঞ্চলিক কৌশলে কিছুটা বাধা সৃষ্টি হয়।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের আরবি গণমাধ্যমগুলোর সূত্র ধরে প্রাপ্ত খবরে জানানো হয়েছে, তেহরান এবার যুদ্ধের শুরু থেকেই সবকটি ফ্রন্টকে একসঙ্গে ও একই সময়ে সক্রিয় করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এই লক্ষ্য অর্জনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কুদস ফোর্সের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিয়মিত হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডারদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ও আলোচনা পরিচালনা করে আসছেন।
ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তেহরানের অত্যন্ত সুসম্পর্ক এই সামরিক ও কৌশলগত সমন্বয়কে আরও বেশি জোরদার করেছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সামরিক চাপ মোকাবিলার উদ্দেশ্যে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় দিক থেকেই হামাস ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পুনর্প্রতিষ্ঠিত সমন্বয় নতুন রূপ নিয়েছে।
সিরিয়ায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং হিজবুল্লাহর সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পর বর্তমানে এই আঞ্চলিক জোটে ইয়ামেন ও ইরাকের শক্তিশালী মিলিশিয়াদের ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিজেদের এই বহুমাত্রিক হামলার পরিকল্পনা সফল করতে ইতোমধ্যে ড্রোন ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বহুগুণ ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়াও লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
(সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট)