ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিতে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জারি করছে যুক্তরাজ্য


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১২:০২ পিএম

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর অঞ্চলের অবৈধ ইহুদি বসতিগুলোর ওপর কঠোর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জারি করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। লন্ডনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল ও সরকারের উচ্চপর্যায়ে ইতোমধ্যে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, যা এখন কেবল আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতনামা জাতীয় দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান এবং দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের পৃথক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, অর্থমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড খুব শিগগিরই এই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ঘোষণা দেবেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের ইসরায়েল ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের নীতিগত অবস্থান ও বৈদেশিক কৌশলে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং সেই পরিবর্তিত সুসংহত নীতির অংশ হিসেবেই পশ্চিম তীরের এই অবৈধ বসতিগুলোতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।

 

অন্যদিক দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কৌশলগত একটি ‘ই-ওয়ান’ করিডর তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল ইসরায়েল। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের তীব্র আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি ইসরায়েল আবার এই করিডর প্রকল্পের কাজ শুরু করার তোড়জোড় ও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এই একগুঁয়ে পদক্ষেপে চরম প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লন্ডনের পক্ষ থেকে এমন কঠোর ও অভাবনীয় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইসরায়েলের এই বিতর্কিত ‘ই-ওয়ান’ প্রকল্পকে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য এবং সম্পূর্ণ বিধ্বংসী হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। একই সাথে তিনি এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ স্বাধীন দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে যুক্তরাজ্য মনে করে নিরাপত্তার অযুহাত দেখিয়ে ইসরায়েল যেসব কঠোর সামরিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে তা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং একটি সার্বভৌম স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথকে চিরতরে বাধাগ্রস্ত করছে।

 

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে যে ঐতিহাসিক আইনি মামলা দায়ের করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্যের বর্তমান সরকার সেই আন্তর্জাতিক মামলায় দক্ষিণ আফ্রিকার বাদিপক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বেশ জোর দিয়েই চিন্তাভাবনা ও মূল্যায়ন পরিচালনা করছে।

 

সম্প্রতি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনার হারের সাম্প্রতিক উল্লম্ফন ও অনিয়মের তীব্র আন্তর্জাতিক নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম আন্তর্জাতিক মঞ্চে অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, পশ্চিম তীরের এই মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অচিরেই যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক ও বিস্তৃত নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ইন্ডি

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর