ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

যৌতুকের বলির শিকার মুক্তা: শিকল দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:১২ পিএম

রাজধানীর খিলক্ষেতে যৌতুকের দাবি ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে নির্মম নির্যাতনের পর মুক্তা ইসলাম (৩০) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রধান আসামি ও নিহতের স্বামী সোহেল শিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে খিলক্ষেত থানা-পুলিশ।


পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জের অধিবাসী মুক্তা ইসলামের সঙ্গে একই এলাকার সোহেল শিকদারের পারিবারিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর তারা খিলক্ষেতের ৫ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেন। শুরুতে মুদিদোকান পরিচালনা করলেও পরবর্তীতে সোহেল এমব্রয়ডারি ব্যবসায় যুক্ত হন। ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলে স্ত্রীর সঙ্গে তার কলহ ও পারিবারিক মনোমালিন্য প্রকট আকার ধারণ করে। কয়েক মাস আগে স্ত্রীর পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন সোহেল। সেই টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় প্রতিনিয়ত মুক্তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হতো বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন।


মৃত্যুর দুদিন আগে তানভীর রহমানের মুঠোফোনে মুক্তাকে নির্যাতনের একটি তিন মিনিটের ভিডিও পাঠায় সোহেল। ভিডিওর সঙ্গে বার্তায় সে লেখে, ‘তোমার বোনকে নিয়ে যাও।’ উক্ত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, মুক্তার পায়ে শিকল পরিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। সোহেল চামড়ার বেল্ট দিয়ে তাকে নির্মমভাবে পেটাতে পেটাতে বলছে, ‘কথা ক, কথা ক, তোরে আজ পিটাইয়া মাইরা ফালামু।’ নির্যাতনের সময় পাশের কক্ষ থেকে দুই সন্তানের কান্নার শব্দ পেয়ে মুক্তা আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘আমাকে মারবা ঠিক আছে, শুধু দুই বাচ্চারে ঘুম পাড়িয়ে আসি।’


ভিডিও বার্তা পাওয়ার পর স্বজনেরা খিলক্ষেতের বাসায় গিয়ে মুক্তাকে আর জীবিত দেখতে পাননি। সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সুস্পষ্ট অভিযোগ, বেধড়ক পিটিয়ে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।


ঘটনার পরপরই ছোট ভাই তানভীর রহমান বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সোহেল শিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি জব্দ করা হয়েছে। খিলক্ষেত থানার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তদন্তে মৃত্যুর দুদিন আগের নির্যাতনের সত্যতা মিলেছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের প্রক্রিয়া চলছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর