ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

র‍্যাবের অভিযান ঘিরে বিতর্ক, সামনে এল ‘জিনের ভর’ মামলা


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৭:১৪ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী মমতাজ আরা বর্ষাকে আটক করতে গিয়ে র‍্যাবের একটি দল পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকার একটি মেসে গেলে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। বর্তমানে মমতাজ আরা বর্ষা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর রুমমেট, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও জকসুর নেতারা। ঘটনার পর থেকে তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ নেই বলে জানা গেছে।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘জিনে ভর করার’ কথা বলে র‍্যাবের এক কর্মকর্তার স্ত্রীর কাছ থেকে অর্থ ও সোনার গয়না হাতিয়ে নেওয়ার একটি মামলায় মমতাজ আরা বর্ষা এজাহারভুক্ত আসামি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করতে র‍্যাবের সহায়তা চেয়েছিল ক্যান্টনমেন্ট থানা-পুলিশ।


মমতাজ আরা বর্ষা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর দুই সহপাঠীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তিনি স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকার একটি সাততলা ভবনের সপ্তম তলায় মেসে থাকতেন তিনি।


গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁকে আটক করতে একটি মাইক্রোবাসে করে তিন ব্যক্তি ওই মেসের সামনে যান। তাঁদের পরনে র‍্যাবের পোশাক ছিল না। তাঁরা ভবনের নিরাপত্তাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে মেসে গিয়ে দরজা খুলতে বলেন। শুরুতে বাসিন্দারা দরজা না খুললেও পরে গালিগালাজ ও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগের মধ্যে দরজা খুলতে বাধ্য হন বলে রুমমেটরা জানান।


এরপর ওই ব্যক্তিরা মেসে ঢুকে তল্লাশি চালান এবং মমতাজ আরা বর্ষাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জকসুর নেতারা ঘটনাস্থলে যান। পরে র‍্যাবের আরেকটি গাড়ি এবং স্থানীয় থানার পুলিশও সেখানে উপস্থিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক জানান, প্রথমে ওই ব্যক্তিরা ভুল জায়গায় এসেছেন বলে দাবি করেন। পরে তাঁরা চুরির মামলার আসামি ধরতে এসেছেন বলে জানান।


একপর্যায়ে মমতাজ আরা বর্ষাকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাধা দেয়। পরে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের সহযোগিতায় তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছিলেন।


ঘটনার পর মমতাজ আরা বর্ষা অভিযোগ করেন, তাঁর বোনের সাবেক স্বামী সুমন মিয়া র‍্যাবের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে (আইটি) কাজ করেন এবং প্রতিশোধ নিতে র‍্যাবকে ব্যবহার করে তাঁকে আটক করার চেষ্টা করেছেন। তবে র‍্যাব-২–এ সুমন নামে কেউ কাজ করেন না বলে জানিয়েছে র‍্যাব।


এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি চুরির মামলা হয়। মামলার বাদী একজন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার, যিনি বর্তমানে র‍্যাব-২–এ কর্মরত। মামলায় তাঁর গাড়িচালক মো. রাসেল ও তাঁর স্ত্রী মাছুরা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘জিনে ভর করার’ কথা বলে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা ও সোনার গয়না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


এজাহার অনুযায়ী, খোয়া যাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ ১৪ লাখ টাকা এবং সোনার পরিমাণ ১০ ভরি। রাসেল ও তাঁর স্ত্রী মাছুরা সোনা বিক্রি করেছেন মমতাজ আরা বর্ষার কাছে—এমন অভিযোগও মামলায় রয়েছে। বর্তমানে ক্যান্টনমেন্ট থানা-পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে এবং দুই আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান জানান, সন্দেহভাজন হিসেবে মমতাজ আরা বর্ষার নাম আসায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল। তাঁকে আটক করতে র‍্যাবের কাছে রিকুইজিশন বা আবেদন করে থানা-পুলিশ।


র‍্যাব-২–এর পরিচালক এবং পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক নয়মুল হাসান বলেন, এজাহারনামীয় আসামিকে আটক করতেই র‍্যাব সেখানে গিয়েছিল এবং অভিযানে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি।


অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির বলেন, প্রথম দিকে যারা মমতাজ আরা বর্ষাকে আটক করতে এসেছিলেন, তাঁরা পরিচয় দিতে পারেননি এবং তাঁদের কাছে কোনো নথি বা মামলার এজাহার ছিল না। এ কারণে ঘটনাস্থলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, মমতাজ আরা বর্ষা অপরাধী হলে ফৌজদারি আইন অনুযায়ী তাঁর বিচার হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর