স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় সংসদে দেশের চলমান ভয়াবহ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী ও সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া তাঁর অত্যন্ত তপ্ত ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ঝড় উঠেছে। সংসদীয় অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বর্তমান দেশের সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি, সরকারের নীতি এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য চলার সময় সংসদ কক্ষে উপস্থিত বিভিন্ন আসনের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও হইচই তৈরি হতে দেখা যায়।
সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা দেশজুড়ে চরম গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বিদ্যমান রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বেশ জোরালো কণ্ঠে বলেন, "বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না..."—তাঁর এই বিস্ফোরক ও আলোচিত মন্তব্যটি জাতীয় সংসদের ভেতরে যেমন তাৎক্ষণিক বিতর্ক ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি করে, তেমনি সংসদ ভবনের বাইরে রাজনৈতিক মহল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার নানা প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক মেরুকরণ ঘটায়। দেশের জ্বালানি খাতে সঠিক দূরদর্শিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মারাত্মক অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এই অর্থনৈতিক সংকটের জন্য অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি ছাড়াও বিগত দিনগুলোতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের তথাকথিত 'সেফ এক্সিট' ও দেশের সার্বিক গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিয়ে তাঁর দেওয়া বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আগেই বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সংসদে দেওয়া আজকের বক্তব্যেও তিনি সেই প্রসঙ্গের অবতারণা করে জোর দাবি জানান যে, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রতিটি স্তরে অবাধ ও নিরপেক্ষ জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে দেশে কাঙ্ক্ষিত জাতীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কখনোই সম্ভব হবে না। উপদেষ্টাদের ভূমিকা ও তাঁদের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি রাজনৈতিক সমঝোতার পাশাপাশি সংবিধানিক নিয়মনীতি মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সংসদে রুমিন ফারহানার দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও চিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর ফেসবুক ও এক্স সহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে এক অভূতপূর্ব তোলপাড় দেখা যায়। নেটিজেন ও রাজনৈতিক সচেতন মহলের একপক্ষ তাঁর এই স্পষ্টভাষী এবং সাহসী অবস্থানের প্রশংসা করলেও অপর পক্ষ তাঁর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা ও বিরোধিতা করছেন। সার্বিকভাবে, রুমিন ফারহানার এই বক্তব্য জাতীয় সংসদীয় রাজনীতির মাঠে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ও নানামুখী বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।