ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ

ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:৫৯ এএম

আর্থিক অনিয়ম ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি বাংলাদেশের গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে। গত বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স সায়মা ওয়াজেদের সেই পদত্যাগপত্র দেখে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে চীন ভ্রমণে আর্থিক অনিয়ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বর্তমানে এসব অভিযোগ তদন্ত করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ তীব্রভাবে অস্বীকার করে আসছেন সায়মা ওয়াজেদ। ২০২৩ সালের নভেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সদস্যদেশগুলোর সরাসরি ভোটে এই পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের মেয়াদে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

 

২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এই সরকারের আমলে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যের পাশাপাশি সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন দুর্নীতির অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু হয়। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই অনুসন্ধানের কাজ শুরু করার পর একপর্যায়ে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সায়মা ওয়াজেদকে অবৈতনিক ছুটিতে পাঠায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পদত্যাগের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ওই অবৈতনিক ছুটিতেই দায়িত্বে ছিলেন।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁর আইনজীবীদের পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়েছিল, চীন সফরের সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক প্রতারণা এবং নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেওয়া এক চিঠিতে ভ্রমণসংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ খণ্ডন করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। আইনজীবীদের মাধ্যমে প্রেরিত ওই চিঠিতে তিনি দাবি করেন, নিয়মিত ভ্রমণ খরচ ফেরত পাওয়ার আবেদনপ্রক্রিয়া করতে গিয়ে তাঁর একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে জড়িত অর্থের পরিমাণ ছিল মাত্র ৯০১ মার্কিন ডলার।

 

অন্যদিকে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। এই যোগ্যতার বিষয়টি তিনি আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসকে সামনাসামনি জানিয়েছিলেন। তাছাড়া পদত্যাগপত্রে বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগ সম্পর্কে সায়মা ওয়াজেদ উল্লেখ করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অধিগ্রহণ করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি বিশেষ আইনের আওতাতেই তিনি ওই জমির আইনি অধিকারী হয়েছিলেন।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ তাঁর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে লিখেছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্য তিনি আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করে আসছিলেন। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান হিসেবে তাকে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনে অনবরত বাধা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে সংস্থার নেতৃত্বের ওপর থেকে তিনি সমস্ত আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কোনো প্রকার বেতন ছাড়া দীর্ঘ প্রায় এক বছর ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের কারণে তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত অসহনীয় হয়ে পড়েছিল। এই সার্বিক বিবেচনায় তিনি দায়িত্ব থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

 

পদত্যাগের পর সায়মা ওয়াজেদ সংবাদমাধ্যমের কাছে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অপরদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি। সংস্থাটি পূর্বে জানিয়েছিল যে সায়মা ওয়াজেদ ছুটিতে আছেন এবং গোপনীয়তার স্বার্থে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সূত্র অনুযায়ী, আগামী ১২ অক্টোবর ডব্লিউএইচওর এই পদের জন্য নতুন মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে এবং ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই–বাছাই শেষে নতুন পরিচালক নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালকেরা বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী স্বাস্থ্য নীতিনির্ধারক হিসেবে বিবেচিত হন। বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নীতি বাস্তবায়ন ও স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করাই এই পদের মূল দায়িত্ব।

সূত্র: রয়টার্স


এ সম্পর্কিত আরো খবর