হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করার ঘোষণা ট্রাম্পের
হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘জয়ী হচ্ছে’ বলেও দাবি করেছেন তিনি। বুধবার রাতে টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান দলের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে যুদ্ধ চলছে, সেটি বর্তমানে তাদের জয়ী হওয়ার পথে রয়েছে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তেলের দাম কমে আসবে বলেও দাবি করেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যুদ্ধে জয়ী হচ্ছি। আমরা হরমুজের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছি।’ এরপরই তিনি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে রাখার প্রস্তাব দেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বলা উচিত। তার ভাষায়, যেহেতু তিনি এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাই এর বিনিময়ে তারও কিছু পাওয়া উচিত। এরপর তিনি ঘোষণা করেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালির নতুন নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা হবে।
ইরানের নেতৃত্ব এ নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে খুশি হবে—এমন ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্ব নিশ্চয়ই এমন নাম শুনে অত্যন্ত আনন্দিত হবে।
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরান ‘ভেঙে পড়ছে’। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গত ৫১ বছর ধরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের ‘দাদাগিরি’ করে এসেছে। তবে এখন আর তারা সেই অবস্থানে নেই।
ট্রাম্পের এসব মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য এ জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক বেশি। এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বা নৌ চলাচলে কোনো ধরনের বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা বাড়লেও এর আগে দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ওই সমঝোতায় কৌশলগত এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সম্ভাব্য চুক্তির কথা বলা হয়েছিল।
সমঝোতাটিকে বৃহত্তর শান্তিচুক্তির দিকে যাওয়ার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় সেই উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এর মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি এবং জলপথটির নাম নিজের নামে পরিবর্তনের ঘোষণা ইরানের সঙ্গে চলমান বিরোধের রাজনৈতিক ও প্রতীকী দিককে আরও স্পষ্ট করেছে।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে হরমুজ প্রণালির আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো আইনি বা আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো ভৌগোলিক নাম একতরফাভাবে পরিবর্তনের ঘোষণার বাস্তব প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প একই বক্তব্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে যুদ্ধে এগিয়ে রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুদ্ধের অবসানের সঙ্গে সঙ্গে তেলের দামও কমে আসবে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্যের পাশাপাশি প্রণালির নিরাপত্তা, নৌ চলাচল এবং দুই দেশের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকেও আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি