অনলাইন রিপোর্টার
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কে অবস্থিত বহুতল বিশিষ্ট এপেক্স ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ভবনটি থেকে হঠাৎ করেই ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হতে দেখে স্থানীয় পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিভানোর কাজ শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ধানমন্ডির ওই বহুতল ভবনে আগুন লাগার খবর পৌঁছানোর সাথে সাথেই উদ্ধারকারী দলগুলোকে প্রস্তুত করে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন জানান, ‘সকাল ১০টা ৫ মিনিটের দিকে আমরা ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের এপেক্স ভবনে আগুন লাগার খবর পাই। সংবাদ পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিটকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত আমাদের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং তা সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।’
ঘটনার সময় বহুতল ভবনটিতে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, হঠাৎ করেই ভবনের একটি অংশ থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ধোঁয়ার তীব্রতা বাড়তে থাকলে ভবনের ভেতরের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দর্শনার্থীরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে ভেতরে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং চারদিক থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।
তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা প্রাথমিক পর্যায়ে জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ফায়ার সদস্যরা এখনো সরেজমিনে আগুন সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। উদ্ধার অভিযান এবং আগুন পুরোপুরি নেভানোর কাজ শেষ হলে তদন্ত সাপেক্ষে অগ্নিকাণ্ডের আসল কারণ, উৎস এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক পরিমাণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এদিকে ধানমন্ডির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বহুতল ভবনে আগুনের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে চারপাশের উৎসুক মানুষের সমাগম ঘটে। ফলে প্রধান সড়কের ওই অংশে যান চলাচলেও কিছুটা ধীরগতি ও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকার চারপাশ ঘেরাও করে সাধারণ মানুষের ভিড় সামাল দেন এবং ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ কাজ নির্বিঘ্ন করার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের দল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আগুন ও ধোঁয়া পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।