ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

বিরোধী দলের তীব্র আপত্তিতেও সংসদে ‘এসআরবি আইন’ পাস, বিলুপ্ত হলো র‌্যাব


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:৫৬ পিএম

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নানা আপত্তি, তীব্র সমালোচনা ও মতভিন্নতার মুখেই বহুল আলোচিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। বিতর্কিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের সরাসরি আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের সুনির্দিষ্ট বিধান রেখে বিলটি পাস করা হয়। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিলটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কণ্ঠভোটে দিলে সেটি পাস হয়। এর মাধ্যমে র‌্যাবের প্রাতিষ্ঠানিক অবসান ঘটিয়ে নতুন বিশেষায়িত বাহিনীর আইনগত সূচনা ঘটল।


এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং বিলের খুঁটিনাটি ধারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তা সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। বুধবার কমিটির মূল প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপিত হলেও সেখানে বিলটির বিভিন্ন বিতর্কিত ধারার ওপর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সাতটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট বা কড়া আপত্তি জানানো হয়। তবে সংসদীয় কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সর্বশেষে পাসের জন্য উত্থাপন করলে বিরোধী দলীয় নেতাসহ অন্যান্য বিরোধী সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। বিরোধী দলীয় নেতা তাঁর বক্তব্যে বলেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করে কেবল নতুন নামে একই ধাঁচের বাহিনী গঠন সাধারণ জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। তাই কোনো অবস্থাতেই এই আইন পাস করা উচিত নয় বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।


বিরোধী দলের সদস্যরা তাঁদের লিখিত আপত্তিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, র‌্যাব বিলুপ্তির পর পর্যাপ্ত জাতীয় পরামর্শ এবং শক্তিশালী ও স্বাধীন জবাবদিহি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এসআরবি শেষ পর্যন্ত র‌্যাবেরই নতুন রূপ ধারণ করতে পারে। এজন্য তাঁরা রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচারক, বিশিষ্ট আইনজীবী, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মানবাধিকার কর্মী এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে বিস্তৃত ও স্বচ্ছ আলোচনার দাবি জানান। বিশেষ করে র‌্যাবের পুরোনো নথি, গুমের বিভিন্ন আলামত ও স্পর্শকাতর রেকর্ডপত্র সরাসরি নতুন বাহিনীতে স্থানান্তরের আগে আলাদা নিরপেক্ষ তালিকা তৈরি ও সঠিকভাবে সংরক্ষণের জোর দাবি তোলা হয়, যেন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও বিচারিক প্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তন না হতে পারে।


পাস হওয়া আইনের ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, সরাসরি বাংলাদেশ পুলিশের প্রত্যক্ষ অধীন এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে, যার সদর দপ্তর স্থাপন করা হবে রাজধানী ঢাকায়। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এটি গঠন করা হবে। এই বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন একজন অভিজ্ঞ মহাপরিচালক, যিনি পুলিশ বাহিনীর অন্তত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা হবেন। তিনি নতুন এই বাহিনীর যাবতীয় প্রশাসনিক, আর্থিক ও প্রশাসনিক অপারেশনাল ক্ষমতা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করবেন।


আইনের ১০ ও ১২ ধারায় এসআরবির মূল দায়িত্ব ও প্রশাসনিক ক্ষমতার পরিধি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ, গুম, ভূঁইফোড় ভূমিদস্যুতা, মানবপাচার ও মাদক দমনে বিশেষায়িত বাহিনীটি সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। অপরাধীদের গ্রেফতার, যেকোনো তল্লাশি চালানো ও আলামত জব্দের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। তবে গ্রেফতার ব্যক্তি বা উদ্ধার করা আলামত এসআরবির নিজস্ব হেফাজতে রাখা যাবে না, বরং আইন অনুযায়ী অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা বাধ্যতামূলক। বাহিনীর সাব-ইন্সপেক্টর বা তাঁর চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব অপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত পরিচালনা করবেন।


আইনের সার্বিক বিলে বাহিনীর সদস্যদের জন্য কঠোর শৃঙ্খলাভঙ্গ ও শাস্তির সুস্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, মদ্যপ অবস্থা, বেআইনি দখলদারি, হেফাজতে থাকা ব্যক্তির প্রতি নির্যাতন বা বল প্রয়োগ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ অমান্য করাকে গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। প্রমাণ সাপেক্ষে বরখাস্ত, পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর বা জরিমানা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আইনটি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে বিলুপ্ত র‌্যাবের সমস্ত সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, তহবিল ও নথি নতুন গঠিত এসআরবিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ন্যস্ত হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর