ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার

‘আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে, এটা সংসদীয় রীতি নয়’


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:৫৯ পিএম

জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখার সময় সহকর্মীদের কাছ থেকে গালাগালির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে কড়া অভিযোগ তুলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, "গতকালকে আমি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, তাতে এই সংসদে কোনও ডিসেন্ট ভয়েস বা ভিন্নমত রেকর্ড করা যায় বলে আমার মনে হয়নি।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপরই আশপাশের কয়েকজন সংসদ সদস্য তাকে প্রকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছেন, যা ন্যূনতম কোনও সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না। বিশ্বের কোনো দেশের সংসদেই এমন আচরণ পরিলক্ষিত হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সাথে র‍্যাব বিলুপ্ত করে সদ্য গঠিত হতে যাওয়া স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) যেন কেবল নাম ও পোশাক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে র‍্যাবেরই অন্য একটি নতুন রূপ হিসেবে আবির্ভূত না হয়, সে বিষয়ে বর্তমান সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করেছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬-এর ওপর জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে একই অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশকৃত আকারে বহুল আলোচিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ কণ্ঠভোটে পাস হয়। এসআরবি বিল পাসের পর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬ বিবেচনার জন্য নেওয়া হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ওই সংসদ সদস্য বিলটি বিস্তারিত জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।


সংসদের কার্যপ্রণালী সংক্রান্ত বক্তব্যের শুরুতেই আগের দিনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংসদীয় পরিবেশ নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলেন রুমিন ফারহানা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংসদে সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা থাকেন। প্রতিটি মানুষের এবং রাজনৈতিক দলের নিজস্ব মতামত থাকতে পারে। সেই গণতান্ত্রিক মতামত প্রকাশ করার মৌলিক স্বাধীনতা প্রত্যেকটি সংসদ সদস্যের থাকা উচিত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, "আমার বক্তব্যের যদি কোনও কাউন্টার বা দ্বিমত প্রকাশ করার প্রয়োজন থাকতো, তবে সেটি সংসদে দাঁড়িয়ে নিয়ম মেনে বলা যেত। আমি বক্তব্য শেষ করার পর যে কেউ কথা বলতে পারতেন। কিন্তু তা না করে এই মহান সংসদে আমাকে আশপাশের সংসদ সদস্যরা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছেন।"


নিজের অতীত রাজনৈতিক ও সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ২০১৮ সালের সংসদে যখন তিনি একা দাঁড়িয়ে তৎকালীন সরকারি দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির পক্ষে কথা বলতেন, তখনও তাকে এমন জঘন্য পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তিনি আক্ষেপ করে প্রশ্ন তোলেন, হাজার হাজার মানুষের প্রাণের বিনিময়ে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাধ্যমে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে এনে আমরা নতুন সংসদ গঠন করেছি। সেখানে যদি ন্যূনতম আচরণগত কোনো পরিবর্তন না ঘটে, তবে এই সংসদে বিরোধী দল সেজে শুধু ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য বসে থাকার কোনও যৌক্তিকতা আছে বলে তিনি মনে করেন না।


পরবর্তীতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিলের প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, র‍্যাবকে বিলুপ্ত করার ব্যাপারে দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল কেবল ঐকমত্যে পৌঁছায়নি, বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা থেকে শুরু করে জাতিসংঘ পর্যন্ত সংস্থাটির মৌলিক কার্যক্রম নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছিল। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, র‍্যাব বিলুপ্তির পর যে নতুন সংস্থা গঠিত হতে যাচ্ছে, তা যেন স্রেফ পোশাক ও নাম পরিবর্তনের খেলা না হয়। অতীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে মানুষকে নানাভাবে হয়রানি, নির্যাতন ও ভীত হতে হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের মানুষ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কাছ থেকে এমন কোনো আচরণ দেখতে চায় না।


বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রুমিন ফারহানা দেশের সকল রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে দলীয়করণ ও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রেখে নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে পরিচালনা করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনী হোক কিংবা অন্য যেকোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী হোক—তাদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে হবে। রুমিন ফারহানার বক্তব্যের পর জাতীয় সংসদের স্পিকারও সংসদে বাকস্বাধীনতা রক্ষা এবং বক্তব্য চলাকালে বাধা প্রদান না করার বিষয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, সরকারি ও বিরোধী দলের যেকোনো সদস্য বক্তব্য দেয়ার সময় অন্য পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হবে না।


এ সম্পর্কিত আরো খবর