অনলাইন রিপোর্টার
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তুচ্ছ একটি মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে বন্ধুদের মধ্যে সৃষ্ট তীব্র বিবাদের জেরে মো. রাব্বী (২৫) নামে এক যুবককে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে যাত্রাবাড়ীর ছনটেক এলাকার প্রধান সড়কে অবস্থিত ‘স্বপ্ন’ সুপারশপের সামনের রাস্তা থেকে ওই যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে নিহত যুবকের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত মো. রাব্বীর স্থায়ী বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর থানার নেওয়াগাঁও গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা হারুনুর রশিদের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি বর্তমানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর গোবিন্দপুর আল-মদিনা গলিতে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং স্থানীয় মাছের আড়তে নিয়মিত কাজ করতেন। মাত্র দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন রাব্বী। তার ঘরে বর্তমানে আড়াই মাস বয়সী একটি কোলে শিশুসন্তান রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে নিহতের দুলাভাই শফিকুর জানান, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে রাব্বীর সঙ্গে তার মুঠোফোনে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল। এর কিছুক্ষণ পর আবার ফোন দেওয়া হলে তার ব্যবহৃত ফোনটি আর সচল পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে এক দূর সম্পর্কের শ্যালিকার মাধ্যমে তারা খবর পান যে, যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় ‘স্বপ্ন’ সুপারশপের সামনের ফাঁকা রাস্তায় রাব্বীকে কে বা কারা হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে। খবর পাওয়া মাত্রই পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি আরও জানান, লাশ উদ্ধারের সময় রাব্বীর পকেটে সামান্য কিছু টাকা পাওয়া গেলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অতনু দে প্রেম জানান, সকালে স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। নিহতের শরীরের প্রাথমিক সুরতহালে দেখা গেছে, তার বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাতের একটি গভীর ও মারাত্মক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার ভোরে একটি মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে মো. রাব্বীর সঙ্গে তার দুই বন্ধুর প্রচণ্ড বাগ্বিতণ্ডা হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে সংক্ষুব্ধ বন্ধুদের মধ্য থেকে একজন ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে রাব্বীর বুকে সজোরে আঘাত করে। মারাত্মক আহত অবস্থায় রাব্বী নিজের প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা চালান। তবে আঘাত মারাত্মক হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তিনি রাস্তার ওপরই গড়িয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।
এসআই অতনু দে প্রেম আরও জানান, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট করা সম্ভব হবে। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ঘাতকদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং তাদের আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আকাশজমিন / আরজে