অনলাইন রিপোর্টার
পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তন এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নকাজের নেতিবাচক প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন মেগাসিটিতে বায়ুদূষণের মাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়ে চলেছে। ধুলোবালি, ক্ষতিকর ধোঁয়া এবং বাতাসে ভাসমান অতিক্ষুদ্র কণার উপস্থিতিতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘আইকিউএয়ার’-এর প্রকাশিত সর্বশেষ সূচক অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী বায়ুদূষণের তালিকায় ৩ নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। বায়ুর গুণমান সূচক বা একিউআই স্কোর ১২৯ নিয়ে ঢাকার বাতাস বর্তমানে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের আইকিউএয়ারের বৈশ্বিক বায়ু মান সূচকে দেখা যায়, ১৯১ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে মালয়েশিয়ার শহর কুচিং। বাতাসের এই মানটি সেখানকার সাধারণ নাগরিকদের জন্যও সরাসরি ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য করা হয়। বৈশ্বিক এই তালিকায় ১৬৭ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। তৃতীয় স্থানে থাকা ঢাকার পর ১২১ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে স্থান পেয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। এ ছাড়া ১১৭ স্কোর নিয়ে দূষিত বায়ুর বৈশ্বিক তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক নগরী দুবাই।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং আইকিউএয়ারের সুনির্দিষ্ট সূচক অনুযায়ী, বায়ু মান স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসকে ‘অনেক ভালো’ ধরা হয়। স্কোর ৫১ থেকে ১০০ হলে বাতাস ‘মাঝারি বা সহনীয়’ হিসেবে বিবেচিত হয়। আবার স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত সরাসরি ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর হলে বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। তবে বাতাসের মান সূচক ৩০১ অতিক্রম করলে তা চরম ‘দুর্যোগপূর্ণ’ ও বিপজ্জনক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।
বাংলাদেশে বাতাসের এই মান বা একিউআই মূলত ৫টি প্রধান দূষণকারী উপাদানের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। এগুলো হলো—অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম২.৫ ও পিএম১০), নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড এবং ওজোন। পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের বিগত বছরের সমীক্ষা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঢাকা শহরের অস্বাভাবিক বায়ুদূষণের পেছনে প্রধানত তিনটি বড় কারণ দায়ী। সেগুলো হলো—পেরিফেরি এলাকায় থাকা অবৈধ ইটভাটা, শহরের যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া এবং বছরজুড়ে চলা বিভিন্ন উন্নয়নকাজের অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ সামগ্রীর ধুলোবালি।
বায়ুদূষণের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও আশঙ্কাজনক তথ্য প্রদান করেছে। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিষাক্ত বায়ুর প্রভাবে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটছে, যা মানবজাতির জন্য মারাত্মক এক হুমকি সৃষ্টি করছে।