ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সারের ডিলার কমিশন বাড়লেও কৃষকের কেনা দাম একই থাকছে কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 'যাচাই না করা' সংবাদে সাংবাদিকদের হতে পারে ১০ বছরের জেল সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পরই ভোটের তারিখ চূড়ান্ত: ইসি সচিব খোঁজ পেলেই ৭ দণ্ডপ্রাপ্তকে গ্রেপ্তার করে আনা হবে: চিফ প্রসিকিউটর সরকারি অফিসে ‘স্যার’ বলা বাধ্যতামূলক করা খুবই খারাপ: তথ্য উপদেষ্টা জুলাই গণহত্যায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না: মীর শাহে আলম

১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পরই ভোটের তারিখ চূড়ান্ত: ইসি সচিব


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৪:১৯ পিএম

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটের তারিখ আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পরই নির্ধারণ করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি উল্লেখ করেছেন, নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়গুলোর যৌথ আলোচনার মাধ্যমেই ভোট গ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি ও সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করা হবে।


মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে সংবাদ সংগ্রহে আসা গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই প্রাতিষ্ঠানিক বার্তা ও সুনির্দিষ্ট অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন।


নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব জানান, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের ভবনে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন ধার্য রয়েছে। এই বহুপক্ষীয় সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পর্যালোচনা, ভোটগ্রহণে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং বিভিন্ন দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। উক্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে প্রাপ্ত সিদ্ধান্ত, প্রস্তাবনা ও পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটের সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে তিনি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।


এর আগে সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সরকার বা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কিছুই জানে না বলে গণমাধ্যমে মন্তব্য করেছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর উক্ত মন্তব্যের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানান যে, প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিপরীত বা পাল্টা কোনো বক্তব্য দেওয়ার মতো ধৃষ্টতা তিনি প্রদর্শন করবেন না। সরকারের একজন দায়িত্বশীল উচ্চপদস্থ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিপরীতে মন্তব্য করা শোভন নয় বলে তিনি মনে করেন।


তবে আখতার আহমেদ স্পষ্ট করে বলেন, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষ হওয়ার পরই সংবাদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ এবং কমিশনের সুনির্দিষ্ট অবস্থান দেশবাসীর কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি অত্যন্ত বৃহৎ ও সর্বজনীন প্রশাসনিক কর্মযজ্ঞ হওয়ায় দেশের সকল পক্ষ ও সরকারি দপ্তরের মধ্যে পারস্পরিক সুসমন্বয় গড়ে তোলা অত্যন্ত অপরিহার্য। নির্বাচন কমিশন একটি স্বায়ত্তশাসিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলেও মাঠপর্যায়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন সফলভাবে সম্পাদন করতে সরকারের বিভিন্ন নির্বাহী বিভাগের সরাসরি সহায়তা, নিরাপত্তা বিধান এবং লজিস্টিক উপকরণের প্রয়োজন পড়ে। ফলে এই আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই পরবর্তী মূল দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।


সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা আরও ইঙ্গিত দেন যে, কমিশন একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে শতভাগ প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো সকল অংশীদারের সঙ্গে নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে ভোটারদের জন্য স্বস্তিদায়ক, নিরপেক্ষ ও নিরাপদ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করা। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রয়োজনীয় বাজেট ও নির্বাচন পরিচালনার প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হবে। তাই ১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠক পর্যন্ত সকল বিভ্রান্তি এড়িয়ে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার কথা ব্যক্ত করেন তিনি।


উল্লেখ্য যে, দেশের বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত জনপ্রতিনিধি নির্বাচন সম্পন্ন করার জোর দাবি ও তাগিদ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদের এই বক্তব্যের পর এটি স্পষ্ট যে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের যৌথ বৈঠকের সিদ্ধান্তই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখবে এবং নির্বাচনি তারিখ ঘিরে তৈরি হওয়া যাবতীয় অস্পষ্টতা ও ধোঁয়াশা পুরোপুরি দূর করবে। দেশবাসী ও রাজনৈতিক দলগুলো এখন ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের ফলাফলের দিকেই নজর রাখছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর