ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পরই ভোটের তারিখ চূড়ান্ত: ইসি সচিব খোঁজ পেলেই ৭ দণ্ডপ্রাপ্তকে গ্রেপ্তার করে আনা হবে: চিফ প্রসিকিউটর সরকারি অফিসে ‘স্যার’ বলা বাধ্যতামূলক করা খুবই খারাপ: তথ্য উপদেষ্টা জুলাই গণহত্যায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না: মীর শাহে আলম মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদের ও আরাফাতসহ ৭ জনের রায় আজ কেন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে? যুদ্ধ শেষে ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ৫০ পেরিয়ে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ গ্রিসে নৌকা ডুবে ১ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, নিখোঁজ ২৫

সরকারি অফিসে ‘স্যার’ বলা বাধ্যতামূলক করা খুবই খারাপ: তথ্য উপদেষ্টা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৩:৪৫ পিএম

সরকারি অফিসে কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ সম্বোধন না করলে নাগরিকদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করা কিংবা সেবা না দেওয়ার প্রবণতাকে পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য এবং অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কাউকে সম্মান প্রদর্শনপূর্বক ‘স্যার’ বলায় কোনো বাধা বা সমস্যা নেই, তবে এটাকে একটি বাধ্যবাধকতার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং বাধ্যতামূলক সম্বোধন হিসেবে চাপিয়ে দেওয়াই মূল সমস্যা।


মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ সংক্রান্ত বক্তব্য প্রদান করেন।


তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি চাকরিজীবীরা মূলতঃ দেশের সাধারণ জনগণের সেবক। কিন্তু আমাদের বর্তমান ও অতীতের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি অপচর্চা গড়ে উঠেছে, যেখানে সাধারণ নাগরিকরা সরকারি অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ না বললে অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ হন বা অসন্তুষ্ট হন। এই মানসিকতা পরিবর্তনের সময় এখন এসেছে। যে কেউ নিজের ইচ্ছা ও শ্রদ্ধাবোধ থেকে যে কাউকে ‘স্যার’ ডাকতেই পারেন, এতে কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু প্রশাসনিক ব্যবস্থার সর্বস্তরে এটাকে এমন একটি জায়গায় পৌছে দেওয়া হয়েছে, যেন ‘স্যার’ বলতেই হবে—এই চর্চাটি অত্যন্ত খারাপ এবং তা একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী।


অতীতে সরকারি দপ্তরগুলোতে সেবা নিতে এসে কেবল ‘স্যার’ না বলার কারণে সাধারণ মানুষ বিভিন্নভাবে হয়রানি, অবহেলা বা বিরূপ আচরণের শিকার হয়েছেন এমন বহু বাস্তব উদাহরণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সাধারণ নাগরিকদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করা সরকারি কর্মচারীদের প্রধান আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু সামান্য সম্বোধনের কারণে ‘স্যার’ না বলায় কোনো কর্মকর্তার রিঅ্যাক্ট করা বা নাগরিককে প্রাপ্য সেবা দেওয়া থেকে বঞ্চিত করার মতো ঘটনা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে এ ধরনের আচরণগত অপসংস্কৃতি যতটা সম্ভব দ্রুত পরিবর্তনের কার্যকর চেষ্টা করব।


তবে কেবল আইন বা সরকারি আদেশ-নির্দেশনা দিয়ে এ ধরনের জটিল ও স্পর্শকাতর সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মত প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বিষয়টি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে বলেন, ধরুন সরকার কঠোর আইন বা পরিপত্র জারি করল যে সরকারি অফিসে কাউকে ‘স্যার’ বলা যাবে না কিংবা এটি বলা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু যিনি সেবা দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন, তিনি যদি মনে মনে সেবাগ্রহীতা ‘স্যার’ না বলায় অসন্তুষ্ট হন এবং সেই অসন্তোষের প্রচ্ছন্ন প্রভাব তার কাজ বা সেবার ওপর ফেলেন, তাহলে মূল জটিলতা থেকেই যাবে। এতে সাধারণ নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে অদৃশ্য বা পরোক্ষ বাধার সম্মুখীন হবেন। কাজেই শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন করে সাময়িক নিয়ম তৈরি করার চেয়ে আমাদের আমলাতান্ত্রিক মানসিকতার মৌলিক ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনা অনেক বেশি জরুরি।


ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, দেশের নাগরিকরা যাতে কোনো ধরনের ভীতি, সংকোচ বা কৃত্রিম বাধ্যবাধকতা ছাড়াই যেকোনো সরকারি দপ্তরে গিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে নিজেদের অধিকার ও প্রাপ্য সেবা দাবি করতে পারেন, তেমন পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সরকারি দপ্তরগুলোকে সম্পূর্ণ জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও সেবামুখী করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণে রূপান্তর ঘটাতে হবে। সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সুনির্দিষ্ট সেবাদাতা, তারা কোনো প্রভু নন—এই সত্য উপলব্ধি করে নাগরিকদের প্রতি সম্মানজনক ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে, তথ্য অধিদফতরসহ রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোর সব স্তরে এই নির্দেশনা ও বার্তা সঠিকভাবে পৌঁছাবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বেচ্ছায় স্বীয় মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আনবেন। এর মাধ্যমে নাগরিক ও প্রশাসনের ভেতরের বিদ্যমান দূরত্ব দূর হবে এবং প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন ধারা সূচিত হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, সকল স্তরের সরকারি কর্মকর্তা ও নাগরিকদের পারস্পরিক শ্রদ্ধার মধ্য দিয়েই একটি সুশাসিত, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বস্তিদায়ক সরকারি সেবা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর